আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বালক balok [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বালক

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ পরিশেষ

কবিতার শিরনামঃ বালক

 

বালক balok [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বালক বয়স ছিল যখন, ছাদের কোণের ঘরে

                   নিঝুম দুইপহরে

                   দ্বারের ‘পরে হেলিয়ে মাথা

                          মেঝে মাদুর পাতা,

                   একা একা কাটত রোদের বেলা–

       না মেনেছি পড়ার শাসন, না করেছি খেলা।

                 দূর আকাশে ডেকে যেত চিল,

       সিসুগাছের ডালপালা সব বাতাসে ঝিলমিল।

                 তপ্ত তৃষায় চঞ্চু করি ফাঁক

                 প্রাচীর-‘পরে ক্ষণে ক্ষণে বসত এসে কাক।

                 চড়ুই পাখির আনাগোনা মুখর কলভাষা–

                 ঘরের মধ্যে কড়ির কোণে ছিল তাদের বাসা।

 

      ফেরিওয়ালার ডাক শোনা যায় গলির ওপার থেকে–

               দূরের ছাদে ঘুড়ি ওড়ায় সে কে।

                      কখন্‌ মাঝে-মাঝে

      ঘড়িওয়ালা কোন্‌ বাড়িতে ঘণ্টাধ্বনি বাজে।

সামনে বিরাট অজানিত, সামনে দৃষ্টি-পেরিয়ে-যাওয়া দূর

                বাজাত কোন্‌ ঘর-ভোলানো সুর।

                কিসের পরিচয়ের লাগি

আকাশ-পাওয়া উদাসী মন সদাই ছিল জাগি।

              অকারণের ভালোলাগা

অকারণের ব্যথায় মিলে গাঁথত স্বপন নাইকো গোড়া আগা।

              সাথিহীনের সাথি

মনে হত দেখতে পেতেম দিগন্তে নীল আসন ছিল পাতি।

সত্তরে আজ পা দিয়েছি আয়ুশেষের কূলে

               অন্তরে আজ জানলা দিলেম খুলে।

তেমনি আবার বালকদিনের মতো

       চোখ মেলে মোর সুদূর-পানে বিনা কাজে প্রহর হল গত।

                    প্রখর তাপের কাল,

              ঝরঝরিয়ে কেঁপে ওঠে শিরীষগাছের ডাল;

                    কুয়োর ধারে তেঁতুলতলায় ঢুকে

              পাড়ার কুকুর ঘুমিয়ে পড়ে ভিজে মাটির স্নিগ্ধ পরশসুখে।

 

              গাড়ির গোরু ক্ষণকালের মুক্তি পেয়ে ক্লান্ত আছে শুয়ে

                     জামের ছায়ার তৃণবিহীন ভুঁয়ে।

                     কাঁকর-পথের পারে

              শুকনো পাতার দৈন্য জমে গন্ধরাজের সারে।

                    চেয়ে আছি দু-চোখ দিয়ে সব-কিছুরে ছুঁয়ে,

                    ভাবনা আমার সবার মাঝে থুয়ে।

                    বালক যেমন নগ্ন-আবরণ,

                            তেমনি আমার মন

              ঐ কাননের সবুজ ছায়ায় এই আকাশের নীলে

                      বিনা বাধায় এক হয়ে যায় মিলে।

                      সকল জানার মাঝে

               চিরকালের না-জানা কার শঙ্খধ্বনি বাজে।

       এই ধরণীর সকল সীমায় সীমাহারার গোপন আনাগোনা

                    সেই আমারে করেছে আন্‌মনা।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত