আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বোধন bodhon [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বোধন bodhon [ কবিতা ]

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : মহুয়া [ ১৯২৯ ]

কবিতার শিরোনামঃ বোধন

বোধন bodhon [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    মাঘের সূর্য উত্তরায়ণে

              পার হয়ে এল চলি,

    তার পানে হায় শেষ চাওয়া চায়

              করুণ কুন্দকলি।

    উত্তর বায় একতারা তার

    তীব্র নিখাদে দিল ঝংকার,

    শিথিল যা ছিল তারে ঝরাইল–

              গেল তারে দলি দলি।

    শীতের রথের ঘূর্ণিধূলিতে

              গোধূলিরে করে ম্লান’।

    তাহারি আড়ালে নবীন কালের

              কে আসিছে সে কি জানো।

    বনে বনে তাই আশ্বাসবাণী

    করে কানাকানি “কে আসে কী জানি’,

    বলে মর্মরে “অতিথির তরে

              অর্ঘ্য সাজায়ে আনো’।

    নির্মম শীত তারি আয়োজনে

              এসেছিল বনপারে।

    মার্জিয়া দিল শ্রান্তি ক্লান্তি,

              মার্জনা নাহি কারে।

ম্লান চেতনার আবর্জনায়

পান্থের পথে বিঘ্ন ঘনায়,

নবযৌবনদূতরূপী শীত

             দূর করি দিল তারে।

ভরা পাত্রটি শূন্য করে সে

             ভরিতে নূতন করি।

অপব্যয়ের ভয় নাহি তার

             পূর্ণের দান স্মরি।

অলস ভোগের গ্লানি সে ঘুচায়,

মৃত্যুর স্নানে কালিমা মুছায়,

চিরপুরাতনে করে উজ্জ্বল

             নূতন চেতনা ভরি।

নিত্যকালের মায়াবী আসিছে

             নব পরিচয় দিতে।

নবীন রূপের অপরূপ জাদু

             আনিবে সে ধরণীতে।

লক্ষ্মীর দান নিমেষে উজাড়ি

নির্ভয় মনে দূরে দেয় পাড়ি,

নব বর সেজে চাহে লক্ষ্মীরে

             ফিরে জয় করে নিতে।

বাঁধন ছেঁড়ার সাধন তাহার,

             সৃষ্টি তাহার খেলা।

দস্যুর মতো ভেঙেচুরে দেয়

             চিরাভ্যাসের মেলা।

মূল্যহীনেরে সোনা করিবার

পরশপাথর হাতে আছে তার,

তাই তো প্রাচীন সঞ্চিত ধনে

             উদ্ধত অবহেলা।

বলো “জয় জয়’, বলো “নাহি ভয়’;

             কালের প্রয়াণপথে

আসে নির্দয় নবযৌবন

             ভাঙনের মহারথে।

চিরন্তনের চঞ্চলতায়

কাঁপন লাগুক লতায় লতায়,

থরথর করি উঠুক পরান

             প্রান্তরে পর্বতে।

বার্তা ব্যাপিল পাতায় পাতায়–

             “করো ত্বরা, করো ত্বরা।

সাজাক পলাশ আরতিপাত্র

             রক্তপ্রদীপে ভরা।

দাড়িম্ববন প্রচুর পরাগে

হোক প্রগল্‌ভ রক্তিমরাগে,

মাধবিকা হোক সুরভিসোহাগে

             মধুপের মনোহরা।’

কে বাঁধে শিথিল বীণার তন্ত্র

             কঠোর যতন ভরে–

ঝংকারি উঠে অপরিচিতার

             জয়সংগীতস্বরে।

নগ্ন শিমুলে কার ভাণ্ডার

রক্ত দুকূল দিল উপহার,

দ্বিধা না রহিল বকুলের আর

             রিক্ত হবার তরে।

দেখিতে দেখিতে কী হতে কী হল

             শূন্য কে দিল ভরি

প্রাণবন্যায় উঠিল ফেনায়ে

             মাধুরীর মঞ্জরি।

ফাগুনের আলো সোনার কাঠিতে

কী মায়া লাগালো, তাই তো মাটিতে

নবজীবনের বিপুল ব্যথায়

             জাগে শ্যামাসুন্দরী।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত