আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

ভাইদ্বিতীয়া কবিতা | bhaidwitiya kobita | প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

ভাইদ্বিতীয়া কবিতাটি [ bhaidwitiya kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থের অংশ।

ভাইদ্বিতীয়া

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ প্রহাসিনী

কবিতার নামঃ ভাইদ্বিতীয়া

 

 

ভাইদ্বিতীয়া কবিতা | bhaidwitiya kobita | প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সকলের শেষ ভাই

             সাত ভাই চম্পার

পথ চেয়ে বসেছিল

             দৈবানুকম্পার।

মনে মনে বিধি-সনে

             করেছিল মন্ত্রণ,

যেন ভাইদ্বিতীয়ার

             পায় সে নিমন্ত্রণ।

          যদি জোটে দরদি

      ছোটো-দি বা বড়ো-দি

অথবা মধুরা কেউ

             নাতনির র৻াঙ্কে,

          উঠিবে আনন্দিয়া,

      দেহ প্রাণ মন দিয়া

ভাগ্যেরে বন্দিবে

             সাধুবাদে থ্যাঙ্কে।

          এল তিথি দ্বিতীয়া,

      ভাই গেল জিতিয়া

ধরিল পারুল দিদি

           হাতা বেড়ি খুন্তি।

 

          নিরামিষে আমিষে

      রেঁধে গেল ঘামি সে,

ঝুড়ি ভ’রে জমা হল

             ভোজ্য অগুন্তি।

          বড়ো থালা কাংসের

      মৎস্য ও মাংসের

কানায় কানায় বোঝা

             হয়ে গেল পূর্ণ।

          সুঘ্রাণ পোলায়ে

      প্রাণ দিল দোলায়ে,

লোভের প্রবল স্রোতে

             লেগে গেল ঘুর্ণো।

          জমে গেল জনতা,

      মহা তার ঘনতা

ভাই-ভাগ্যের সবে

             হতে চায় অংশী।

          নিদারুণ সংশয়

      মনটারে দংশয়–

বহুভাগে দেয় পাছে

             মোর ভাগ ধ্বংসি।

 

          চোখ রেখে ঘণ্টে

      অতি মিঠে কণ্ঠে

কেহ বলে, “দিদি মোর!”

             কেহ বলে, “বোন গো,

          দেশেতে না থাক্‌ যশ,

      কলমে না থাক্‌ রস,

রসনা তো রস বোঝে,

             করিয়ো স্মরণ গো।”

          দিদিটির হাস্য

      করিল যা ভাষ্য

পক্ষপাতের তাহে

             দেখা দিল লক্ষণ।

          ভয় হল মিথ্যে,

      আশা হল চিত্তে,

নির্ভাবনায় ব’সে

             করিলাম ভক্ষণ।

          লিখেছিনু কবিতা

      সুরে তালে শোভিতা–

এই দেশ সেরা দেশ

              বাঁচতে ও মরতে।

          ভেবেছিনু তখুনি,

      একি মিছে বকুনি।

আজ তার মর্মটা

             পেরেছি যে ধরতে।

          যদি জন্মান্তরে

      এ দেশেই টান ধরে

ভাইরূপে আর বার

             আনে যেন দৈব–

          হাঁড়ি হাঁড়ি রন্ধন,

      ঘষাঘষি চন্দন,

ভগ্নী হবার দায়

             নৈবচ নৈব।

          আসি যদি ভাই হয়ে

      যা রয়েছি তাই হয়ে

সোরগোল পড়ে যাবে

             হুলু আর শঙ্খে–

          জুটে যাবে বুড়িরা

      পিসি মাসি খুড়িরা,

ধুতি আর সন্দেশ

             দেবে লোকজনকে।

 

 

 

          বোনটার ধ’রে চুল

      টেনে তার দেব দুল,

খেলার পুতুল তার

             পায়ে দেব দলিয়া।

          শোক তার কে থামায়,

      চুমো দেবে মা আমায়,

রাক্ষুসি বলে তার

             কান দেবে মলিয়া।

          বড়ো হলে নেব তার

      পদখানি দেবতার,

দাদা নাম বলতেই

             আঁখি হবে সিক্ত।

          ভাইটি অমূল্য,

      নাই তার তুল্য,

সংসারে বোনটি

             নেহাত অতিরিক্ত।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত