আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

লজ্জা কবিতা । lojja kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

  লজ্জা কবিতাটি [ lojja kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের অংশ। এটি ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার “মানসী-সোনার তরী পর্ব”-এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
কাব্যগ্রন্থের নামঃ সোনার তরী
কবিতার নামঃ লজ্জা

লজ্জা কবিতা । lojja kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 লজ্জা

আমার হৃদয় প্রাণ
            সকলই করেছি দান,
       কেবল শরমখানি রেখেছি।
            চাহিয়া নিজের পানে
            নিশিদিন সাবধানে
       সযতনে আপনারে ঢেকেছি।
            হে বঁধু, এ স্বচ্ছ বাস
            করে মোরে পরিহাস,
       সতত রাখিতে নারি ধরিয়া–
            চাহিয়া আঁখির কোণে
            তুমি হাস মনে মনে,
       আমি তাই লাজে যাই মরিয়া।
            দক্ষিণপবনভরে
            অঞ্চল উড়িয়া পড়ে
       কখন্‌ যে নাহি পারি লখিতে।
            পুলকব্যাকুল হিয়া
            অঙ্গে উঠে বিকশিয়া,
       আবার চেতনা হয় চকিতে।
            বদ্ধ গৃহে করি বাস
            রুদ্ধ যবে হয় শ্বাস
       আধেক বসনবন্ধ খুলিয়া
            বসি গিয়া বাতায়নে,
            সুখসন্ধ্যাসমীরণে
       ক্ষণতরে আপনারে ভুলিয়া।
পূর্ণচন্দ্রকররাশি
            মূর্ছাতুর পড়ে আসি
       এই নবযৌবনের মুকুলে,
            অঙ্গ মোর ভালোবেসে
            ঢেকে দেয় মৃদু হেসে
       আপনার লাবণ্যের দুকূলে–
            মুখে বক্ষে কেশপাশে
            ফিরে বায়ু খেলা-আশে,
       কুসুমের গন্ধ ভাসে গগনে–
            হেনকালে তুমি এলে
            মনে হয় স্বপ্ন ব’লে,
       কিছু আর নাহি থাকে স্মরণে।
            থাক্‌ বঁধু, দাও ছেড়ে,
            ওটুকু নিয়ো না কেড়ে,
       এ শরম দাও মোরে রাখিতে–
            সকলের অবশেষ
            এইটুকু লাজলেশ
       আপনারে আধখানি ঢাকিতে।
            ছলছল-দু’নয়ান
            করিয়ো না অভিমান,
       আমিও যে কত নিশি কেঁদেছি;
            বুঝাতে পারি নে যেন
            সব দিয়ে তবু কেন
       সবটুকু লাজ দিয়ে বেঁধেছি–
কেন যে তোমার কাছে
       একটু গোপন আছে,
একটু রয়েছি মুখ হেলায়ে।
       এ নহে গো অবিশ্বাস–
       নহে সখা, পরিহাস,
নহে নহে ছলনার খেলা এ।
       বসন্তনিশীথে বঁধু,
       লহ গন্ধ, লহ মধু,
সোহাগে মুখের পানে তাকিয়ো।
       দিয়ো দোল আশে-পাশে,
       কোয়ো কথা মৃদু ভাষে–
শুধু এর বৃন্তটুকু রাখিয়ো।
       সেটুকুতে ভর করি
       এমন মাধুরী ধরি
তোমাপানে আছি আমি ফুটিয়া,
       এমন মোহনভঙ্গে
       আমার সকল অঙ্গে
নবীন লাবণ্য যায় লুটিয়া–
       এমন সকল বেলা
       পবনে চঞ্চল খেলা,
বসন্তকুসুম-মেলা দুধারি।
       শুন বঁধু, শুন তবে,
       সকলই তোমার হবে,
কেবল শরম থাক্‌ আমারি।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত