আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

সাত ভাই চম্পা sat bhai chompa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

সাত ভাই চম্পা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : কড়ি ও কোমল

কবিতার শিরনামঃ সাত ভাই চম্পা

সাত ভাই চম্পা sat bhai chompa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সাতটি চাঁপা সাতটি গাছে,

           সাতটি চাঁপা ভাই–

রাঙা-বসন পারুলদিদি,

           তুলনা তার নাই।

সাতটি সোনা চাঁপার মধ্যে

           সাতটি সোনা মুখ,

পারুলদিদির কচি মুখটি

           করতেছে টুক্‌টুক্‌।

ঘুমটি ভাঙে পাখির ডাকে,

           রাতটি যে পোহালো–

ভোরের বেলা চাঁপায় পড়ে

           চাঁপার মতো আলো।

শিশির দিয়ে মুখটি মেজে

           মুখখানি বের ক’রে

কী দেখছে সাত ভায়েতে

           সারা সকাল ধ’রে।

দেখছে চেয়ে ফুলের বনে

           গোলাপ ফোটে-ফোটে,

পাতায় পাতায় রোদ পড়েছে,

           চিক্‌চিকিয়ে ওঠে।

দোলা দিয়ে বাতাস পালায়

           দুষ্টু ছেলের মতো,

লতায় পাতায় হেলাদোলা

           কোলাকুলি কত।

গাছটি কাঁপে নদীর ধারে

           ছায়াটি কাঁপে জলে–

ফুলগুলি সব কেঁদে পড়ে

           শিউলি গাছের তলে।

ফুলের থেকে মুখ বাড়িয়ে

           দেখতেছে ভাই বোন —

দুখিণী এক মায়ের তরে

           আকুল হল মন।

সারাটা দিন কেঁপে কেঁপে

           পাতার ঝুরুঝুরু,

মনের সুখে বনের যেন

           বুকের দুরুদুরু।

কেবল শুনি কুলুকুলু

           একি ঢেউয়ের খেলা।

বনের মধ্যে ডাকে ঘুঘু

           সারা দুপুরবেলা।

মৌমাছি সে গুনগুনিয়ে

           খুঁজে বেড়ায় কাকে,

ঘাসের মধ্যে ঝিঁ ঝিঁ ক’রে

           ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে।

ফুলের পাতায় মাথা রেখে

           শুনতেছে ভাই বোন —

মায়ের কথা মনে পড়ে,

           আকুল করে মন।

মেঘের পানে চেয়ে দেখে —

           মেঘ চলেছে ভেসে,

রাজহাঁসেরা উড়ে উড়ে

 

           চলেছে কোন্‌ দেশে।

প্রজাপতির বাড়ি কোথায়

           জানে না তো কেউ,

সমস্ত দিন কোথায় চলে

           লক্ষ হাজার ঢেউ।

দুপুর বেলা থেকে থেকে

           উদাস হল বায়,

শুকনো পাতা খ’সে প’ড়ে

           কোথায় উড়ে যায়!

ফুলের মাঝে দুই গালে হাত

           দেখতেছে ভাই বোন —

মায়ের কথা পড়ছে মনে,

           কাঁদছে পরান মন।

সন্ধে হলে জোনাই জ্বলে

           পাতায় পাতায়,

অশথ গাছে দুটি তারা

           গাছের মাথায়।

বাতাস বওয়া বন্ধ হল,

           স্তব্ধ পাখির ডাক,

থেকে থেকে করছে কা-কা

           দুটো-একটা কাক।

পশ্চিমেতে ঝিকিমিকি,

           পুবে আঁধার করে —

সাতটি ভায়ে গুটিসুটি

           চাঁপা ফুলের ঘরে।

“গল্প বলো পারুলদিদি’

           সাতটি চাঁপা ডাকে,

পারুলদিদির গল্প শুনে

           মনে পড়ে মাকে।

প্রহর বাজে, রাত হয়েছে,

            ঝাঁ ঝাঁ করে বন —

ফুলের মাঝে ঘুমিয়ে প’ল

            আটটি ভাই বোন।

সাতটি তারা চেয়ে আছে

            সাতটি চাঁপার বাগে,

চাঁদের আলো সাতটি ভায়ের

            মুখের পরে লাগে।

ফুলের গন্ধ ঘিরে আছে

            সাতটি ভায়ের তনু —

কোমন শয্যা কে পেতেছে

            সাতটি ফুলের রেণু।

ফুলের মধ্যে সাত ভায়েতে

            স্বপ্ন দেখে মাকে —

সকাল বেলা “জাগো জাগো’

            পারুলদিদি ডাকে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত