Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | তালগাছ |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শিশু ভোলানাথ |
| প্রকাশের বছর | ১৯২২ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | শিশুতোষ ও রূপকাশ্রিত লিরিক কবিতা (Children’s Allegorical Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
তাল’গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়
একেবারে উড়ে যায়;
কোথা পাবে পাখা সে?
তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে’ তার,–
মনে মনে ভাবে, বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা-পত্তর,
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।
তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায়,
পাতা-কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।
সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- উচ্চাশা ও সীমানা অতিক্রমের সাধ:“তাল’গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে / সব গাছ ছাড়িয়ে / উঁকি মারে আকাশে। / মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায় / একেবারে উড়ে যায়;”— তালগাছের দীর্ঘ গড়ন যেন সমস্ত জাগতিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অসীমের পানে চেয়ে থাকা এক সাধক বা স্বপ্নচারীর প্রতীক। তার মনে কালো মেঘের সীমানা ভেদ করে অনন্ত আকাশে মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলার ব্যাকুল বাসনা।
- পাতার কম্পন ও কল্পনার উড্ডয়ন:“সারাদিন ঝরঝর থত্থর / কাঁপে পাতা-পত্তর, / ওড়ে যেন ভাবে ও, … আকাশেতে বেড়িয়ে / তারাদের এড়িয়ে”— বাতাসে তালগাছের পাতার ঝিরঝির শব্দকে গাছটি তার ডানার বিস্তার বলে মনে করে। পাতার এই কম্পন আসলে কল্পনার জগতে ভেসে চলার এক অলীক আনন্দ, যেখানে সে নিজেকে গ্রহ-তারার দেশ পেরিয়ে যাওয়া মুক্ত সত্তা হিসেবে অনুভব করে।
- শিকড়ের টান ও ধরিত্রীপ্রেম:“তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায়, / পাতা-কাঁপা থেমে যায়, / ফেরে তার মনটি / যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার / ভালো লাগে আরবার / পৃথিবীর কোণটি।”— বাতাস থামার সাথে সাথে যখন কল্পনার উড়ান স্তব্ধ হয়, তখনই তালগাছ তার বাস্তব শিকড়কে স্মরণ করে। সে বোঝে, এই ধূলিমাটিই তার গর্ভধারিণী মা। অসীমের আকর্ষণ পেরিয়ে অবশেষে মাটির আশ্রয়েই যে পরম শান্তি ও জীবনের সার্থকতা, এই অনুধাবনে কবিতাটি শেষ হয়।