আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

শৈশব সঙ্গীত কাব্যগ্রন্থের ‘পথিক’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামপথিক
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থশৈশব সঙ্গীত
প্রকাশের বছর১৮৮৪ (১২৯১ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনরূপকধর্মী ও দার্শনিক আখ্যান কবিতা (Allegorical / Philosophical Narrative Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৮৮৪ সালে প্রকাশিত ‘শৈশব সঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিজীবনের প্রথম পর্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি, যেখানে কৈশোর ও যুবমানসের তীব্র আবেগ, কল্পনাবিলাস এবং জীবনের গূঢ় অর্থ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ‘পথিক’ কবিতায় কবি জীবনের প্রভাতে নবীন প্রাণের জয়গান গেয়েছেন—যেখানে তরুণরা সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে প্রভাতের আলোর আহ্বানে অজানার উদ্দেশে পা বাড়ায়। কিন্তু দীর্ঘ পথ চলতে চলতে যৌবন যখন ফুরিয়ে আসে, তখন ক্লান্তি, হতাশা, সহযাত্রীদের হারিয়ে ফেলা এবং বার্ধক্যের জীর্ণতায় থমকে দাঁড়ানোর এক মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে ওঠে। শেষ পর্যন্ত জীবনের অন্তিম সময়ে এসে নশ্বরতা ও অভিজ্ঞতার যে উপলব্ধি ঘটে, তা এই কবিতাকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে।

 

পথিক কবিতা

প্রভাতে

                উঠ, জাগ তবে– উঠ, জাগ সবে–

                হের ওই হের, প্রভাত এসেছে

                        স্বরণ-বরণ গো!

                নিশার ভীষণ প্রাচীর আঁধার

                শতধা শতধা করিয়া বিদার–

                তরুণ বিজয়ী তপন এসেছে

                        অরুণচরণ গো!

                মাথায় বিজয়কিরীট জ্বলিছে,

                        গলায় বিজয়কিরণমাল,

                বিজয়বিভায় উজলি উঠেছে,

                        বিজয়ী রবির তরুণ ভাল!

                উষা নববধূ দাঁড়াইয়া পাশে–

                গরবে সরমে সোহাগে উলাসে

                মৃদু মৃদু হেসে সারা হল বুঝি,

                        বুঝিবা সরম রহে না তার!

                আঁখি দুটি নত, কপোলটি রাঙা,

                পদতলে শুয়ে মেঘ ভাঙা ভাঙা,

                অধর টুটিয়া পড়িছে ফুটিয়া

                        হাসি সে বারণ সহে না আর!

                এস এস তবে — ছুটে যাই সবে,

                        কর কর তবে ত্বরা–

                এমন বহিছে প্রভাতবাতাস,

                        এমন হাসিছে ধরা!

                সারা দেহে যেন অধীর পরাণ

                        কাঁপিছে সঘনে গো,

                অধীর চরণ উঠিতে চায়,

                অধীর চরণ ছুটিতে চায়,

                        অধীর হৃদয় মম

                        প্রভাতবিহগসম

                নব নব গান গাহিতে গাহিতে,

                অরুণের পানে চাহিতে চাহিতে

                        উড়িবে গগনে গো!

                ছুটে  আয় তবে, ছুটে আয় সবে,

                        অতি দূর– দূর যাব,

                করতালি দিয়া সকলে মিলিয়া

                        কত শত গান গাব!

                কি গান গাইবে ? কি গান গাইব!

                যাহা  প্রাণ চায় তাহাই গাইব,

                গাইব আমরা প্রভাতের গান,

                হৃদয়ের গান, জীবনের গান–

                ছুটে আয় তবে, ছুটে আয় সবে,

                        অতি দূর দূর যাব!

                কোথায় যাইবে? কোথায় যাইব!

                জানি না আমরা কোথায় যাইব,

                সুমুখের পথ যেথা ল’য়ে যায়–

                কুসুমকাননে, অচল শিখরে,

                নিঝর যেথায় শত ধারে ঝরে,

                মণিমুকুতার বিরল গুহায়–

                সুমুখের পথ যেথা ল’য়ে যায়!

                দেখ-চেয়ে দেখ-পথ ঢাকা আছে

                        কুসুমরাশিতে রে,

                কুসুম দলিয়া-যাইব চলিয়া

                        হাসিতে হাসিতে রে!

                ফুলে কাঁটা আছে ? কই! কাঁটা কই!

                        কাঁটা নাই– নাই– নাই,

                এমন মধুর কুসুমেতে কাঁটা

                        কেমনে থাকিবে ভাই!

                যদিও বা ফুলে         কাঁটা থাকে ভুলে

                        তাহাতে কিসের ভয়!

                ফুলেরি উপরে         ফেলিব চরণ,

                        কাঁটার উপরে নয়!

                ত্বরা ক’রে আয়        ত্বরা ক’রে আয়

                        যাই মোরা যাই চল্‌।

                নিঝর যেমন  বহিয়া চলিছে

                        হরষেতে টলমল–

                নাচিছে, ছুটিছে, গাহিছে, খেলিছে,

                শত আঁখি তার পুলকে জ্বলিছে,

                দিন রাত নাই কেবলি চলিছে,

                        হাসিতেছে খল খল্‌!

                তরুণ মনের উছাসে অধীর

                ছুটেছে যেমন প্রভাতসমীর,

                ছুটেছে কোথায়?– কে জানে কোথায়!

                তেমনি তোরাও আয় ছুটে আয়,

                তেমনি হাসিয়া– তেমনি খেলিয়া,

                পুলক-উজল নয়ন মেলিয়া,

                হাতে হাতে বাঁধি করতালি দিয়া

                        গান গেয়ে যাই চল্‌।

                আমাদের কভু হবে না বিরহ,

                এক সাথে মোরা রব অহরহ,

                এক সাথে মোরা করিব গমন,

                সারা পথ মোরা করিব ভ্রমণ,

                বহিছে এমন প্রভাতপবন,

                        হাসিছে এমন ধরা!

                যে যাইবি আয়– যে থাকিবি থাক্‌–

                        যে আসিবি  কর্‌ ত্বরা!

                                   …

                        আমি যাব গো!–

                প্রভাতের গান আর জীবনের গান

                দেখি যদি পারি তবে আমি গাব গো,

                        আমি যাব গো!

                যদিও শকতি নাই এ দীন চরণে আর,

                যদিও নাইক জ্যোতি এ পোড়া নয়নে আর,

                শরীর সাধিতে নারে মন মোর যাহা চায়,

                শতবার আশা করি শতবার ভেঙ্গে যায়–

                        আমি যাব গো!

                সারারাত ব’সে আছি, আঁখি মোর অনিমেষ।

                প্রণের ভিতর দিকে       চেয়ে দেখি অনিমিখে,

                চারি দিকে  যৌবনের ভগ্ন জীর্ণ অবশেষ।

                ভগ্ন আশা ভগ্ন সুখ–  ধূলিমাখা জীর্ণ স্মৃতি।

                সামান্য বায়ুর দাপে       ভিত্তি থর থর কাঁপে,

                একটি আধটি ইঁট খসিতেছে নিতি নিতি–

                        আমি যাব গো!

                নবীন আশায় মাতি পথিকেরা যায়,

                        কত গান গায়!–

                এ ভগ্ন প্রমোদালয়ে     পশে সুর ভয়ে ভয়ে,

                        প্রতিধ্বনি মৃদুল জাগায়–

                তারা  ভগ্ন ঘরে ঘরে ঘুরিয়া বেড়ায়!

                তখন নয়ন মুদি কত স্বপ্ন দেখি!

                        কত স্বপ্ন হায়!

                কত দীপালোক — কত ফুল–কত পাখী!

                কত সুধামাখা কথা, কত হাসিমাখা আঁখি!

                কত পুরাতন স্বর কে জানে কাহারে ডাকে!

                কত কচি হাত এসে   খেলে এ পলিত কেশে,

                কত কচি রাঙ্গা মুখ কপোলে কপোল রাখে!

                        কত স্বপ্ন হায়!

                হৃদয় চমকি উঠি চারি দিকে চায়,

                দেখে গো কঙ্কালরাশি হেথায় হোথায়!

                        সে দীপ নিভিয়া গেছে,

                        সে ফুল শুখায়ে গেছে,

                        সে পাখী মরিয়া গেছে–

                সুধামাখা কথাগুলি চিরতরে নীরবিত

                হাসিমাখা আঁখিগুলি চিরতরে নিমীলিত।–

                        আমি যাব গো!

                দেখি যদি পারি তবে প্রভাতের গান

                        আমি গাব গো!

                এ ভগ্ন বীণার তন্ত্রী ছিঁড়েছে সকল আর–

                        দুটি বুঝি বাকি আছে তার!

                এখানো প্রভাতে যদি হরিষিতপ্রাণ

                এ বীণা বাজাতে চাই– চমকি শুনিতে পাই

                সহসা গাহিয়া উঠে যৌবনেরি গান

                        সেই দুটি তার।

                টুটে গেছে, ছিঁড়ে গেছে বাকি যত আর।

                যুগ-যুগান্তের এই শুষ্ক জীর্ণ গাছে

                        দুটি শাখা আছে–

                এখনো যদি গো শুনে বসন্তপাখীর গীত,

                এখনো পরশে যদি বসন্তমলয়বায়,

                        দু-চারিটি কিশলয়

                        এখনো বাহির হয়,

                এখনো এ শুষ্ক শাখা হেসে উঠে মুকুলিত,

                একটি ফুলের কুঁড়ি ফুটিয়া উঠিতে চায়,

                ফুটে-ফুটো হয় যবে ঝরিয়া মরিয়া যায়।

                এ ভগ্ন বীণার দুটি ছিন্নশেষ তারে

                        পরশ করেছে আজি গো–

                নবযৌবনের গান ললিতরাগিণী

                        সহসা উঠেছে বাজি গো।–

                এই ভগ্ন ঘরে ঘরে      প্রতিধ্বনি খেলা করে

                        শ্মশানেতে হাসিমুখ শিশুটির প্রায়–

                লইয়া মাথার খুলি     আধ-পোড়া অস্থিগুলি,

                প্রমোদে ভস্মের ‘পরে ছুটিয়া বেড়ায়।

                তোমরা তরুণ পাখী উড়েছ প্রভাতে

                        সকলে মিলিয়া এক সাথে,

                এ পাখী এ শুষ্ক শাখে         একেলা কেমনে থাকে!

                সাধ– তোমাদেরি, সাথে যায়,

                সাধ– তোমাদেরি গান গায়,

                তরুণ কণ্ঠের সাথে এ পুরানো কণ্ঠ মোর

                        বাজিবে না সুরে?

                নাহয় নীরবে রব’,   নাহয় কথা না কব–

                শুনিব তোদেরি গান এ শ্রবণ পূরে।

                এই ছিন্ন জীর্ণ পাখা বিছায়ে গগনে

                        যাব প্রাণপণে–

                পথমাঝে শ্রান্ত যদি হই অতিশয়

                        তবে — দিস্‌ রে আশ্রয়।

                পথে যে কণ্টক আছে কি ভাবিলি তার?

                কত শুষ্ক জলাশয়– কত মাঠ মরুময়–

                পর্ব্বতশিখরশায়ী বিস্তৃত তুষার!

                কত শত বক্রগতি   নদী খরস্রোত অতি,

                ঘুরিছে দারুণ বেগে আবর্ত্তের জল–

                হা দুর্ব্বল তুই তার কি ভাবিলি বল!

                ভাবিয়া ত কাটায়েছি সারাটি জীবন,

                ভবিতে পারি না আর,   জীবন দুর্ব্বহ ভার–

                সহিব এ পোড়া ভালে যা আছে লিখন।

                যদি প্রতি পদে পদে অদৃষ্টের কাঁটা বিঁধে,

                প্রতি কাঁটা তুলে তুলে কত আর চলি!

                নাহয় চরণে বিঁধি মরিব গো জ্বলি।

                        আমি যাব গো।

                                …

                        মধ্যাহ্ন

                “আর কত দূর?” “যত দূর হোক্‌

                        ত্বরা চল সেই দেশ।

                বিলম্ব হইলে আজিকার দিনে

                        এ যাত্রা হবে না শেষ।”

                “এ শ্রান্ত চরণে বিঁধিয়াছে বড়

                        কণ্টক বিষম গো।”

                “প্রথম তপন হানিছে কিরণ

                        অনলের সম গো।”

                “ছি ছি ছি সামান্য  শ্রমেতে কাতর

                        করিছ রোদন কেন!

                ছি ছি ছি সামান্য ব্যথায় অধীর

                        শিশুর মতন হেন!”

                “যাহা ভেবেছিনু সকাল বেলায়

                        কিছুই তাহা যে নয়।”

                “তাহাই ব’লে কি আধ’ পথ হ’তে

                        ফিরে যেতে সাধ হয়?”

                “তবে চল যাই– যত দূর হোক্‌

                        ত্বরা চল সেই দেশ–

                বিলম্ব হইলে আজিকার দিনে

                        এ যাত্রা হবে না শেষ।”

                “বল দেখি তবে এই মরুময়

                        পথের কি শেষ আছে?

                পাব কি আবার শ্যামল কানন

                        ঘন ছায়াময় গাছে?”

                “হয়ত বা পাবে হয়ত পাবে না,

                        হয়ত বা আছে, হয়ত নাই!”

                “ওই যে সুদুরে দূরদিগন্তরে

                        শ্যামল কানন দেখিতে পাই।”

                “শ্যামল কানন– শ্যামল কানন–

                ওই যে গো হেরি শ্যামল কানন–

                চল, সবে চল, হসিত-আনন,

                        চল ত্বরা চল, চল গো যাই!”

                “ও যে মরীচিকা” — “ও কি মরীচিকা?”

                        “মরীচিকা?” “তাই হবে!”

                “বল, বল মোরে, এ দীর্ঘ পথের

                        শেষে কোন্‌ খানে তবে?”

                                    …

                অবশ চরণ হেন উঠিতে চাহে না যেন–

                        পারি না বহিতে দেহভার।

                        এ পথের বাকি কত আর!

                           কেন  চলিলাম?

                সে দিনের যত কথা কেন ভুলিলাম?

                ছেলেবেলা এক দিন আমরাও চলেছিনু–

                তরুণ আশায় মাতি আমরাও বলেছিনু–

                “সারা পথ আমাদের হবে না বিরহ,

                মোরা সবে এক সাথে রব অহরহ।”

                অর্দ্ধপথে না যাইতে যত বাল্যসখা

                কে কোথায় চ’লে গেল না পাইনু দেখা।

                শ্রান্তপদে দীর্ঘ পথ ভ্রমিলাম একা।

                নিরাশাপুরেতে গিয়া সে যাত্রা করেছি শেষ,

                পুন কেন বাহিরিনু ভ্রমিতে নূতন দেশ?

                ভগ্নআশাভিত্তি-‘পরে নব-আশা কেন

                গড়িতে গেলাম হায় উনমাদ-হেন?

                আঁধার কবরে সেথা মৃত ঘটনার

                কঙ্কাল আছিল প’ড়ে, স্মৃতি নাম যার।

                এক দিন ছিল যাহা তাই সেথা আছে,

                আর কভু হবে না যা তাই সেথা আছে–

                এক দিন ফুটেছিল যে ফুল-সকল

                        তারি শুষ্ক দল,

                এক দিন যে পাদপ তুলেছিল মাথা

                        তারি শুষ্ক পাতা,

                এক দিন যে সঙ্গীত জাগাত রজনী

                        তারি প্রতিধ্বনি,

                যে মঙ্গলঘট ছিল দুয়ারের পাশ

                        তারি ভগ্ন রাশ!

                সে প্রেতভূমিতে আমি ছিনু রাত্রি দিন

                        প্রেতসহচর!

                কেহ বা সমুখে আসি দাঁড়ায়ে কাঁদিত

                        শীর্ণকলেবর।

                কেহ বা নীরবে আসি পাশেতে বসিয়া,

                দিন নাই রাত্রি নাই, নয়নে পলক নাই,

                শুধু ব’সে ছিল এই  মুখেতে চাহিয়া।

                সন্ধ্যা হ’লে শুইতাম, দীপহীন শূন্য ঘর–

                        কেহ কাঁদে, কেহ হাসে,

                        কেহ পায়, কেহ পাশে,

                কেহ বা শিয়রে ব’সে শত প্রেতসহচর!

                কেহ শত সঙ্গী ল’য়ে     আকাশমাঝারে র’য়ে

                ভাবশূন্য স্তব্ধমুখে করিত গো নেত্রপাত–

                এমনি  কাটিত দিন, এমনি কাটিত রাত!

                কেন হেন দেশ ত্যজি আইলাম হা– রে–

                ফুরাত জীবনদিন        চিন্তাহীন ভয়হীন,

                মরিয়া গো রহিতাম মৃত সে সংসারে–

                মৃত  আশা, মৃত সুখ, মৃতের মাঝারে!

                আবার নূতন করি জীবনের খেলা

                আরম্ভ করিতে কি গো সময় আমার?

                ফুরায়ে গিয়েছে যবে জীবনের বেলা

                প্রভাতের অভিনয় সাজে কি গো আর?

                        তবে কেন চলিলাম?

                সে দিনের যত কথা কেন ভুলিলাম?

                এখন ফিরিতে নারি অতি দূর–দূর পথ,

                সমুখে চলিতে নারি শ্রান্ত দেহ জড়বৎ,

                হে তরুণ পান্থগণ, যেওনাকো আর–

                শ্রান্ত হইয়াছি বড়, বসি একবার।

                ছায়া নাই, জল নাই,  সীমা দেখিতে না পাই–

                অতি দূর– দূর পথ– বসি একবার।

                                 …

                      “আর কত দূর” “যত দূর হোক্‌,

                              ত্বরা চল সেই দেশ।

                      বিলম্ব হইলে আজিকার দিনে

                              এ যাত্রা হবে না শেষ।”

                      “কোথা এর শেষ?”      “যেথা হোক নাক”

                              তবুও যাইতে হবে–

                      পথে কাঁটা আছে,       শুধু ফুল নহে,

                              তাহাও জানিও সবে!

                      হয়ত যাইব কুসুমকাননে,

                              হয়ত যাইব না–

                      হয়ত পাইব পূর্ণ জলাশয়,

                              হয়ত পাইব না।

                      এ দূর পথের অতি শেষ সীমা

                              হয়ত দেখিতে পাব,

                      হয়ত পাব না– ভুলি যদি পথ

                              কে জানে কোথায় যাব!

                      শুনিলে সকল, এখন তোমরা

                              কে যাইবে মোর সাথ?

                      যে থাকিবে থাক, যে যাইবে এস–

                              ধর সবে মোর হাত।

                      দিন যায় চ’লে, সন্ধ্যা হ’ল ব’লে,

                              অধিক সময় নাই–

                      বহু দূর পথ রহিয়াছে বাকি,

                              চল ত্বরা ক’রে যাই।”

                      “ও পথে যাব না, মিছা সব আশা

                              হইব উত্তরগামী।”

                      “দক্ষিণে যাইব।” “পশ্চিমে যাইব”

                              “পুরবে যাইব আমি।”

                      “যে যাইবে  যাও, যে আসিবে এস,

                              চল ত্বরা ক’রে যাই।

                      দিন যায় চ’লে, সন্ধ্যা হ’ল ব’লে,

                              অধিক সময় নাই।”

                      যেও না ফেলিয়া মোরে, যেও নাকো আর–

                      মুহূর্ত্তের তরে হোথা  বসি একবার।

                      ছায়া নাই, জল নাই, সীমা দেখিতে না পাই,

                      যেও না, বড়ই শ্রান্ত এ দেহ আমার।

                      “চলিলাম তবে, দিন যায় যায়,

                              হইনু উত্তরগামী।”

                      “দক্ষিণে চলিনু।” “পশ্চিমে  চলিনু।”

                              “পুরবে চলিনু আমি।”

                      “যে থাকিবে থাক, যে আসিবে এস,

                              মোরা ত্বরা করে যাই।

                      দিন যায় চ’লে, সন্ধ্যা হ’ল ব’লে,

                              অধিক সময় নাই।”

                                        …

                      হাসিতে হাসিতে প্রাতে  আইনু সবার সাথে,

                              সায়াহ্নে সকলে তেয়াগিল

                      দক্ষিণে কেহ বা যায়,     পশ্চিমে কেহ বা যায়,

                              কেহ বা উত্তরে চলি গেল।

                      চৌদিকে অসীম মরু,      নাই তৃণ, নাই তরু,

                              দারুণ নিস্তব্ধ চারি ধার–

                      পথ ঘোর জনহীন,        মরিয়া  যেতেছে দিন,

                              চুপি চুপি আসিছে আঁধার।

                      অনল-উত্তপ্ত ভূঁয়ে        নিস্পন্দ রয়েছি শুয়ে,

                              অনাবৃত্ত মাথায় উপর।

                      সঘনে ঘুরিছে মাথা,       মুদে আসে আঁখিপাতা,

                              অসাড় দুর্ব্বল কলেবর।

                                      কেন চলিলাম?

                      সহসা কি মদে মাতি আপনারে ভুলিলাম?

                      দক্ষিণাবাতাস বহা ফুরায়েছে এ জীবনে,

                      হৃদয়ে উত্তরবায়   করিতেছে হায় হায়–

                      আমি কেন আইলাম বসন্তের উপবনে?

                      জানিস কি হৃদয় রে,    শীতের সমাধি-‘পরে

                              বসন্তের কুসুমশয়ন?

                      অরুণকিরণময়             নিশার চিতায় হয়

                              প্রভাতের নয়ন-মেলন?

                      যৌবনবীণার মাঝে আমি কেন থাকি  আর–

                      মলিন, কলঙ্ক-ধরা একটি বেসুরা তার!

                      কেন আর থাকি  আমি যৌবনের ছন্দ-মাঝে,

                      নিরর্থ অমিল এক কানেতে কঠোর বাজে!

                      আমার আরেক ছন্দ, আমার আরেক বীণ–

                      সেই ছন্দে এক গান বাজিতেছে নিশিদিন।

                      সন্ধ্যার আঁধার আর শীতের বাতাসে মিলি

                      সে ছন্দ  হয়েছে গাঁথা মরণকবির হাতে–

                      সেই ছন্দ ধ্বনিতেছে হৃদয়ের নিরিবিলি,

                      সেই ছন্দ লিখা আছে হৃদয়ের পাতে পাতে!

                              তবে কেন চলিলাম?

                      সহসা কি মদে মাতি আপনারে ভুলিলাম!

                      তবে যত দিন বাঁচি রহিব হেথায় পড়ি–

                      এক পদ উঠিব না, মরি ত হেথায় মরি–

                      প্রভাতে উঠিবে রবি, নিশীথে উঠিবে তারা,

                      পড়িবে মাথার ‘পরে রবিকর বৃষ্টিধারা।

                      হেথা হতে উঠিব না,   মৌনব্রত টুটিব না–

                      চরণ অচল রবে অচল পাষাণ-পারা।

                      দেখিস, প্রভাত কাল হইবে যখন,

                      তরুণ পথিক দল    করি হর্ষকোলাহল

                      সমুখের পথ দিয়া করিবে গমন,

                      আবার নাচিয়া যেন উঠে না রে মন!

                      উল্লাসে অধীরহিয়া   দুখশ্রান্তি ভুলি গিয়া

                      আর উঠিস না কভু করিতে ভ্রমণ।

                      প্রভাতের মুখ দেখি উনমাদ-হেন

                       ভুলিস নে– ভুলিস নে– সায়াহ্নেরে যেন!

 

Pothik Kobita

Probhate

Uth, jag tobe– uth, jag sobe–

Her oi her, probhat esechhe

Sworon-boron go!

Nishar bhishon prachir andhar

Shotodha shotodha koriya bidar–

Torun bijoyi topon esechhe

Orunochoron go!

Mathay bijoyokirit jwolichhe,

Golay bijoyokironomal,

Bijoyobibhay ujoli uthechhe,

Bijoyi robir torun bhal!

Usha nobobodhu daraiya pashe–

Gorobe sorome sohage ulase

Mridu mridu hese sara hol bujhi,

Bujhiba sorom rohe na tar!

Ankhi duti not, kopoloti ranga,

Podotole shuye megh bhanga bhanga,

Odhor tutiya porichhe phutiya

Hasi se baron sohe na ar!

Es es tobe — chhute jai sobe,

Kor kor tobe twora–

Emon bohichhe probhatobatas,

Emon hasichhe dhora!

Sara dehe jeno odhir poran

Kanpichhe shoghane go,

Odhor choron uthite chay,

Odhor choron chhutite chay,

Odhor hridoy momo

Probhato-bihogosom

Nobo nobo gan gahite gahite,

Oruner pane chahite chahite

Uribe gogone go!

Chhute ay tobe, chhute ay sobe,

Oti dur– dur jab,

Korotali diya sokole miliya

Koto shot gan gab!

Ki gan gaibe? Ki gan gaib!

Jaha pran chay tahai gaib,

Gaib amora probhater gan,

Hridoyer gan, jiboner gan–

Chhute ay tobe, chhute ay sobe,

Oti dur dur jab!

Kothay jaibe? Kothay jaib!

Jani na amora kothay jaib,

Sumukher poth jetha loye jay–

Kusumkanone, ochol shikhore,

Nijhor jethay shot dhare jhore,

Monimukutar birol guhay–

Sumukher poth jetha loye jay!

Dekh-cheye dekh-poth dhaka achhe

Kusumorashite re,

Kusum doliya-jaib choliya

Hasite hasite re!

Phule kanta achhe? Koi! Kanta koi!

Kanta nai– nai– nai,

Emon modhur kusumete kanta

Kemone thakibe bhai!

Jodio ba phule kanta thake bhule

Tahate kiser bhoy!

Phuleri upore

Phelib choron,

Kantar upore noy!

Twora kore ay, twora kore ay

Jai mora jai chol.

Nijhor jemon bohiya cholichhe

Horoshete tolmol–

Nachichhe, chhutichhe, gahichhe, khelichhe,

Shot ankhi tar puloke jwolichhe,

Din rat nai keboli cholichhe,

Hashitechhe khol khol!

Torun moner uchchhase odhir

Chhutechhe jemon probhatoshomir,

Chhutechhe kothay?– Ke jane kothay!

Temni torao ay chhute ay,

Temni hasiya– temni kheliya,

Pulok-ujol noyon meliya,

Hate hate bandhi kortali diya

Gan geyে jai chol.

Amader kobhu hobe na birah,

Ek sathe mora rob ahoroh,

Ek sathe mora korib gomon,

Sara poth mora korib bhromon,

Bohichhe emon probhatopobon,

Hashichhe emon dhora!

Je jaibi ay– je thakibi thak–

Je asibi kor twora!

…

Ami jab go!–

Probhater gan ar jiboner gan

Dekhi jodi pari tobe ami gab go,

Ami jab go!

Jodio shokti nai e din chorone ar,

Jodio naik jyoti e pora noyone ar,

Shorir sadhite nare mon mor jaha chay,

Shotobar asha kori shotobar bhenge jay–

Ami jab go!

Sararato bose achhi, ankhi mor onimish.

Praner bhitor dike cheye dekhi onimikhе,

Chari dike jouboner bhogno jirno oboshesh.

Bhogno asha bhogno sukh– dhulimakha jirno smriti.

Samanno bayur dape bhitti thor thor kape,

Ekti adhti it khoshitechhe niti niti–

Ami jab go!

Nobin ashay mati pothikera jay,

Koto gan gay!–

E bhogno promodaloye poshe sur bhoye bhoye,

Protidhwoni mridul jagay–

Tara bhogno ghore ghore ghuriya beray!

Tokhon noyon mudi koto shopno dekhi!

Koto shopno hay!

Koto dipalok — koto phul– koto pakhi!

Koto sudhamakha kotha, koto hashimakha ankhi!

Koto puraton swor ke jane kahare dake!

Koto kochi hat eshe khele e polito keshe,

Koto kochi ranga mukh kopole kopol rakhe!

Koto shopno hay!

Hridoy chomki uthi chari dike chay,

Dekhe go konkalsorashi hethay hothay!

Se dip nibhiya gechhe,

Se phul shukhaye gechhe,

Se pakhi moriya gechhe–

Sudhamakha kothaguli chirotore nirobito

Hashimakha ankhiguli chirotore nimilito.–

Ami jab go!

Dekhi jodi pari tobe probhater gan

Ami gab go!

E bhogno binার tontরি chhirechhe sokol ar–

Duti bujhi baki achhe tar!

Ekhono probhate jodi horishitopran

E bina bajate chai– chomki shunite pai

Shohosa gahিয়া uthe jouboneri gan

Shei duti tar.

Tute gechhe, chhire gechhe baki joto ar.

Jug-jugantorer ei shushko jirno gachhe

Duti shakha achhe–

Ekhono jodi go shune boshontopakhir git,

Ekhono poroshe jodi boshontomoloyobay,

Du-chariti kisholoy

Ekhono bahir hoy,

Ekhono e shushko shakha hese uthe mukulito,

Ekti phuler kuri phutiya uthite chay,

Phute-phuto hoy jobe jhoriya moriya jay.

E bhogno binার duti chhinno-shesh tare

Porosh korechhe aji go–

Nobojouboner gan lolitoragini

Shohosa uthechhe baji go.–

Ei bhogno ghore ghore protidhwoni khela kore

Shmashanete hashimukh shishutir pray–

Loiya mathar khuli adha-pora osthiguli,

Promode bhoshmer ‘pore chhutiya beray.

Tomra torun pakhi urechho probhate

Sokole miliya ek sathe,

E pakhi e shushko shakhe ekela kemone thake!

Sadh– tomaderi, sathe jay,

Sadh– tomaderi gan gay,

Torun konther sathe e purano kontho mor

Bajibe na sure?

Nahoy nirobe rob, nahoy kotha na kob–

Shunib toderi gan e shrabon pure.

Ei chhinno jirno pakha bichhaye gogone

Jab pranpone–

Pothomajhe shranto jodi hoi otishoy

Tobe — dis re ashroy.

Pothe je kontok achhe ki bhabili tar?

Koto shushko jolashoy– koto math morumoy–

Porbotshikhoroshayi bistirno tushar!

Koto shot bokrogoti nodi khorsrot oti,

Ghurichhe darun bege abortter jol–

Ha durbol tui tar ki bhabili bol!

Bhabiya to katayechhi sarati jibon,

Bhabite pari na ar, jibon durboh bhar–

Shohib e pora bhale ja achhe likhon.

Jodi proti pode pode odrisht er kanta bindhe,

Proti kanta tule tule koto ar choli!

Nahoy chorone bindhi morib go jwoli.

Ami jab go.

…

Modhyahno

“Ar koto dur?” “Joto dur hok

Twora chol shei desh.

Bilombo hoile ajikar dine

E jatra hobe na shesh.”

“E shranto chorone bindhiyachhe boro

Kontok bishom go.”

“Prothom topon hanichhe kiron

Onoler shom go.”

“Chhi chhi chhi samanno shromete kator

Korichh rodon keno!

Chhi chhi chhi samanno byathay odhir

Shishur moton heno!”

“Jaha bhebechhinu shokal belay

Kichhui taha je noy.”

“Tahai bole ki adha poth hote

Phire jete sadh hoy?”

“Tobe chol jai– joto dur hok

Twora chol shei desh–

Bilombo hoile ajikar dine

E jatra hobe na shesh.”

“Bol dekhi tobe ei morumoy

Pother ki shesh achhe?

Pab ki abar shyamal kanon

Ghon chhayamoy gachhe?”

“Hoyto ba pabe hoyto pabe na,

Hoyto ba achhe, hoyto nai!”

“Oi je sudure doordigontore

Shyamal kanon dekhite pai.”

“Shyamal kanon– shyamal kanon–

Oi je go heri shyamal kanon–

Chol, sobe chol, hoshito-anan,

Chol twora chol, chol go jai!”

“O je morichika” — “O ki morichika?”

“Morichika?” “Tai hobe!”

“Bol, bol more, e dirgho pother

Sheshe kon khane tobe?”

…

Obosh choron hen uthite chahe na jeno–

Pari na bohitе dehobhar.

E pother baki koto ar!

Keno cholilam?

She diner joto kotha keno bhulilam?

Chelebela ek din amrao cholechhinu–

Torun ashay mati amrao bolechhinu–

“Sara poth amader hobe na birah,

Mora sobe ek sathe rob ahoroh.”

Ordhopothe na jaite joto balyoshokha

Ke kothay chole gelo na painu dekha.

Shrantopode dirgho poth bhromilam eka.

Nirashapurete giya she jatra korechhi shesh,

Pun keno bahirinু bhromite nuton desh?

Bhognoashabhittir-‘pore nob-asha keno

Gorite gelam hay unmad-hen?

Andhar kobore setha mrito ghotonar

Konkал achhilo pore, smriti nam jar.

Ek din chhilo jaha tai setha achhe,

Ar kobhu hobe na ja tai setha achhe–

Ek din phutechhilo je phul-shokol

Tari shushko dol,

Ek din je padap tulechhilo matha

Tari shushko pata,

Ek din je songit jagat rojoni

Tari protidhwoni,

Je mongolghot chhilo duyarer pash

Tari bhogno rash!

She pretabhumite ami chhinu ratri din

Pretoshochor!

Keho ba shomukhe asi daraye kandit

Shirnokalebor.

Keho ba nirobe asi pashete boshiya,

Din nai ratri nai, noyone polok nai,

Shudhu bose chhilo ei mukhete chahiya.

Shondhya hole shuitam, diphin shunno ghor–

Keho kande, keho hashe,

Keho pay, keho pashe,

Keho ba shiyore bose shot pretoshochor!

Keho shot songi loye akashomajhare roye

Bhaboshunno stobdhomukhe korit go netropat–

Emoni katit din, emoni katit rat!

Keno hen desh tyaji ailam ha– re–

Phurat jibondin chintahin bhoyhin,

Moriya go rohitam mrito she shongshare–

Mrito asha, mrito sukh, mriter majhare!

Abar nuton kori jiboner khela

Arambho korite ki go shomoy amar?

Furaye giyechhe jobe jiboner bela

Probhater obhinoy shaje ki go ar?

Tobe keno cholilam?

She diner joto kotha keno bhulilam?

Ekhon phirite nari oti dur– dur poth,

Shomukhe cholite nari shranto deho jorobot,

He torun panthogon, yeonako ar–

Shranto hoyechhi boro, boshi ekbar.

Chhaya nai, jol nai, shima dekhite na pai–

Oti dur– dur poth– boshi ekbar.

…

“Ar koto dur” “Joto dur hok,

Twora chol shei desh.

Bilombo hoile ajikar dine

E jatra hobe na shesh.”

“Kotha er shesh?” “Jetha hok nak”

Tobu-o jaite hobe–

Pothe kanta achhe, shudhu phul nohe,

Tahao janiyo sobe!

Hoyto jaib kusumkanone,

Hoyto jaib na–

Hoyto paib purno jolashoy,

Hoyto paib na.

E dur pother oti shesh shima

Hoyto dekhite pab,

Hoyto pab na– bhuli jodi poth

Ke jane kothay jab!

Shunile sokol, ekhon tomra

Ke jaibe mor sathe?

Je thakibe thak, je jaibe es–

Dhor sobe mor hat.

Din jay chole, shondhya hol bole,

Odhik shomoy nai–

Bohu dur poth rohiyaachhe baki,

Chol twora kore jai.”

“O pothe jab na, michha shob asha

Hoib uttarogami.”

“Dokkhin-e jaib.” “Poshchime jaib”

“Purbe jaib ami.”

“Je jaibe jao, je ashbe es,

Chol twora kore jai.

Din jay chole, shondhya hol bole,

Odhik shomoy nai.”

Jeo na phelia more, jeo nako ar–

Muhurtter tore hotha boshi ekbar.

Chhaya nai, jol nai, shima dekhite na pai,

Jeo na, boroi shranto e deho amar.

“Cholilam tobe, din jay jay,

Hoinu uttarogami.”

“Dokkhin-e cholinu.” “Poshchime cholinu.”

“Purbe cholinu ami.”

“Je thakibe thak, je ashbe es,

Mora twora kore jai.

Din jay chole, shondhya hol bole,

Odhik shomoy nai.”

…

Hashite hashite prate ainu shobar sathe,

Sayahne sokole tyagil

Dokkhin-e keho ba jay, poshchime keho ba jay,

Keho ba uttore choli gel.

Choudike oshim moru, nai trin, nai toru,

Darun nistobdho chari dhar–

Poth ghor jonohin, moriya yetechhe din,

Chupi chupi asichhe andhar.

Onol-uttopto bhunye nishpond royecchi shuye,

Anabritto mathay upor.

Soghনে ghurichhe matha, mude ashe ankhipata,

Osar durbol kalebor.

Keno cholilam?

Shohosa ki mode mati apnare bhulilam?

Dokkhinabatas boha phurayechhe e jibone,

Hridoye uttarbay koritechhe hay hay–

Ami keno ailam boshonter upobone?

Janis ki hridoy re, shiter shomadhi-‘pore

Boshonter kusumshoyon?

Orunkironmoy nishar chitay hoy

Probhater noyon-melon?

Joubonbinার majhe ami keno thaki ar–

Molin, kolonko-dhora ekti besura tar!

Keno ar thaki ami jouboner chhondo-majhe,

Niroth omil ek kanete kothor baje!

Amar arek chhondo, amar arek bin–

Shei chhonde ek gan bajitechhe nishidin.

Shondhyar andhar ar shiter batashe mili

She chhondo hoyechhe gantha moronkobir hate–

Shei chhondo dhwonitechhe hridoyer niribili,

Shei chhondo likha achhe hridoyer pate pate!

Tobe keno cholilam?

Shohosa ki mode mati apnare bhulilam!

Tobe joto din banchi rohib hethay pori–

Ek pod uthib na, mori to hethay mori–

Probhate uthibe robi, nishithe uthibe tara,

Poribe mathar ‘pore robikor brishtidhara.

Hetha hote uthib na, mounobroto tutib na–

Choron ochol robe ochol pashan-para.

Dekhis, probhat kal hoibe jokhon,

Torun pothik dol kori horshokolahol

Shomukher poth diya koribe gomon,

Abar nachiya jeno uthe na re mon!

Ullashe odhir hoya dukhsh্রanti bhuli giya

Ar uthis na kobhu korite bhromon.

Probhater mukh dekhi unmad-hen

bhulis ne– bhulis ne– sayahnere jeno!

 

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
  • যৌবনের জয়যাত্রা ও প্রভাতের আহ্বান: জীবনের শুরুতে তরুণ প্রাণ কীভাবে সমস্ত ভয় ও ক্লান্তি ভুলে অজানার সন্ধানে এবং প্রভাতের গানে মেতে ওঠে, তার এক প্রাণোচ্ছ্বল রূপ কবিতার প্রথম অংশে প্রকাশ পেয়েছে।
  • পথের ক্লান্তি ও বার্ধক্যের পরিণতি: দীর্ঘ যাত্রাপথে আশাভঙ্গ, সহযাত্রীদের হারিয়ে ফেলা এবং বার্ধক্যের জীর্ণতায় এসে পৌঁছানোর পর জীবনের পরম সত্য ও স্থবিরতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে কবিতার দার্শনিক পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (শৈশব সঙ্গীত কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত