আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

শ্যামলী কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শ্যামলী [ ১৯৩৬ ]

কবিতার শিরোনামঃ শ্যামলী

 

শ্যামলী কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ওগো শ্যা-মলী,

            আজ শ্রাবণে তোমার কালো কাজল চাহনি

                 চুপ করে থাকা বাঙালি মেয়েটির

            ভিজে চোখের পাতায় মনের কথাটির মতো।

      তোমার মাটি আজ সবুজ ভাষায় ছড়া কাটে ঘাসে ঘাসে

                  আকাশের বাদল-ভাষার জবাবে।

        ঘন হয়ে উঠল তোমার জামের বন পাতার মেঘে,

              বলছে তারা উড়ে-চলা মেঘগুলোকে হাত তুলে,

                          “থামো, থামো —

                    থামো তোমার পুব বাতাসের সওয়ারি।”

     পথের ধারে গাছতলাতে তোমার বাসা, শ্যা-মলী,

            তুমি দেবতাপাড়ায় বেদের মেয়ে,

     বাসা ভাঙ বারে বারে, খালি হাতে বেরিয়ে পড় পথে,

          এক নিমেষে তুমি নিঃশেষে গরিব, তুমি নির্ভাবনা।

 

            তোমাকে যে ভালোবেসেছে

                 গাঁঠছড়ার বাঁধন দাও না তাকে;

            বাসর-ঘরের দরজা যখন খোলে রাতের শেষে

                তখন আর কোনোদিন চায় না সে পিছন ফিরে।

      মুখোমুখি বসব বলে বেঁধেছিলেম মাটির বাসা

                 তোমার কাঁচা-বেড়া-দেওয়া আঙিনাতে।

                     সেদিন গান গাইল পাখিরা,

                          তাদের নেই অচল খাঁচা;

                 তারা নীড় যেমন বাঁধে তেমনি আবার ভাঙে।

      বসন্তে এ পারে তাদের পালা, শীতের দিনে ও পারের অরণ্যে।

    সেদিন সকালে

   হাওয়ার তালে হাততালি দিলে গাছের পাতা।

         আজ তাদের নাচ বনে বনে,

                 কাল তাদের ধুলোয় লুটিয়ে-পড়া–

         তা নিয়ে নেই বিলাপ, নেই নালিশ।

      বসন্ত-রাজদরবারের নকিব ওরা;

এ বেলায় ওদের কাজ, জবাব মেলে ও বেলায়।

এই ক’টা দিন তোমায় আমায় কথা হল কানে কানে;

 

আজ কানে কানে বলছ আমায়,

         “আর নয়, এবার তোলো বাসা।”

            আমি পাকা করে গাঁথি নি ভিত,

আমার মিনতি ফাঁদি নি পাথর দিয়ে তোমার দরজায়;

বাসা বেঁধেছি আলগা মাটিতে–

      যে চলতি মাটি নদীর জলে এসেছিল ভেসে,

            যে মাটি পড়বে গলে শ্রাবণধারায়।

            যাব আমি।

      তোমার ব্যথাবিহীন বিদায়দিনে

আমার ভাঙা ভিটের ‘পরে গাইবে দোয়েল লেজ দুলিয়ে

      এক শাহানাই বাজে তোমার বাঁশিতে, ওগো শ্যা-মলী,

                    যেদিন আসি আবার যেদিন যাই চলে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত