বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৌতুকরসাত্মক, খেয়ালী ও লঘু মেজাজের সৃষ্টিসংকলন ‘খাপছাড়া’র একটি অন্যতম সুরময়, স্বপ্নিল ও পরাবাস্তবধর্মী লিরিক কবিতা হলো ‘স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার’। এই কবিতায় নদী ও আকাশের সীমানা মিলিয়ে যাওয়া এক স্বপ্নরাজ্যের পটভূমিতে চাঁদের আকুতি এবং ঘুমন্ত কবির অসহায় অবস্থার এক অপূর্ব কৌতুকপূর্ণ ও মায়াবী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | খাপছাড়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৬ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | স্বপ্নভিত্তিক, কল্পনাপ্রবণ ও লিরিক্যাল কবিতা (Dream-based Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১৯৩৬ সালে প্রকাশিত ‘খাপছাড়া’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের খামখেয়ালি ও হালকা মেজাজের কবিতার এক অনন্য ভাণ্ডার। এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে জীবনের নানা অসঙ্গতি, ছোটখাটো ঘটনা এবং অদ্ভুত সব কল্পনাশক্তির লঘু প্রকাশ দেখা যায়। ‘স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার’ কবিতায় কবি এক অদ্ভুত স্বপ্নের জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে নদী আর আকাশ একাকার হয়ে যায় এবং ত্রয়োদশীর চাঁদ একটি ছোট্ট শিশুর মতো নৌকো পার করে দেওয়ার জন্য কেঁদে ওঠে।
স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার – সম্পূর্ণ কবিতা
স্বপ্নে দেখি-নৌকো আমার
নদীর ঘাটে বাঁধা;
নদী কিম্বা আকাশ সেটা
লাগল মনে ধাঁধাঁ।
এমন সময় হঠাৎ দেখি,
দিক্সীমানায় গেছে ঠেকি
একটুখানি ভেসে-ওঠা
ত্রয়োদশীর চাঁদা।
“নৌকোতে তোর পার করে দে’
এই ব’লে তার কাঁদা।
আমি বলি, “ভাবনা কী তায়,
আকাশপারে নেব মিতায়–
কিন্তু আমি ঘুমিয়ে আছি
এই যে বিষম বাধা,
দেখছ আমার চতুর্দিকটা
স্বপ্নজালে ফাঁদা।’
Romanized Version
Swopne dekhi-nouka amar
Nodir ghate badha;
Nodi kimba akash sheto
Laglo mone dhadha.
Emon shomoy hothat dekhi,
Dik-shimanay geche theki
Ektukhani vese-otha
Troyodoshir chanda.
“Nouhote tor par kore de”
Ei bole tar kanda.
Ami boli, “bhabna ki tay,
Akashpare nebo mitay–
Kintu ami gumiye achhi
Ei je bishom badha,
Dekhchho amar choturdikta
Shopnojale fada.’
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- নদী ও আকাশের বিভ্রম:
“স্বপ্নে দেখি-নৌকো আমার / নদীর ঘাটে বাঁধা; / নদী কিম্বা আকাশ সেটা / লাগল মনে ধাঁধাঁ।”— স্বপ্নের অবাস্তব জগতে নদীর ঘাট এবং বিশাল আকাশ একাকার হয়ে গেছে, যা মানুষের অবচেতন মনের এক অদ্ভুত চঞ্চল রূপ।
- ত্রয়োদশীর চাঁদের আকুতি:
“একটুখানি ভেসে-ওঠা / ত্রয়োদশীর চাঁদা। / ‘নৌকোতে তোর পার করে দে’ / এই ব’লে তার কাঁদা।”— আকাশের ত্রয়োদশীর চাঁদ যেন এক অভিমানী শিশুর মতো নৌকো পার করে দেওয়ার বায়না ধরে কেঁদে উঠছে, যা রবীন্দ্রকল্পনার এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ঘুমের অন্তরায় ও স্বপ্নজাল:
“কিন্তু আমি ঘুমিয়ে আছি / এই যে বিষম বাধা, / দেখছ আমার চতুর্দিকটা / স্বপ্নজালে ফাঁদা।”— মিতাকে (চাঁদকে) ওপারে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কবি অসহায়, কারণ তিনি নিজে ঘুমিয়ে আছেন এবং চারপাশটা একটা কঠিন স্বপ্নজালে আবদ্ধ। বাস্তবের সাথে স্বপ্নের এই দ্বন্দ্ব কবিতাটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
উৎস
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।





![হে পথিক, কোন্খানে চলেছ কাহার পানে he pothik konkhane cholecho kahar pane [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে পথিক, কোন্খানে চলেছ কাহার পানে he pothik konkhane cholecho kahar pane [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/হে-পথিক-কোন্খানে-চলেছ-কাহার-পানে-1024x536.gif)
![কো তুঁহু ko tuhu [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কো তুঁহু ko tuhu [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/কো-তুঁহু-ko-tuhu-কবিতা--1024x536.gif)