আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা কবিতা । shreshtho bhikkha kobita। কথা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা কবিতা [ shreshtho bhikkha kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কথা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ কথা

কবিতার নামঃ শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা

শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা কবিতা । shreshtho bhikkha kobita। কথা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অবদানশতক

অনাথপিণ্ডদ বুদ্ধের একজন প্রধান শিষ্য ছিলেন

“প্রভু বুদ্ধ লাগি আমি ভিক্ষা মাগি,

ওগো পুরবাসী, কে রয়েছে জাগি,

অনাথপিণ্ডদ কহিলা অম্বুদ-

                   নিনাদে।

সদ্য মেলিতেছে তরুণ তপন

আলস্যে অরুণ সহাস্য লোচন

শ্রাবস্তীপুরীর গগনলগন

                   প্রাসাদে।

বৈতালিকদল সুপ্তিতে শয়ান

এখনো ধরে নি মাঙ্গলিক গান,

দ্বিধাভরে পিক মৃদু কুহুতান

                   কুহরে।

ভিক্ষু কহে ডাকি, “হে নিদ্রিত পুর,

দেহো ভিক্ষা মোরে, করো নিদ্রা দূর’–

সুপ্ত পৌরজন শুনি সেই সুর

                   শিহরে।

সাধু কহে, “শুন, মেঘ বরিষার

নিজেরে নাশিয়া দেয় বৃষ্টিধার,

সর্ব ধর্মমাঝে ত্যাগধর্ম সার

                   ভুবনে।’

কৈলাসশিখর হতে দূরাগত

ভৈরবের মহাসংগীতের মতো

সে বাণী মন্দ্রিল সুখতন্দ্রারত

                   ভবনে।

রাজা জাগি ভাবে বৃথা রাজ্য ধন,

গৃহী ভাবে মিছা তুচ্ছ আয়োজন,

অশ্রু অকারণে করে বিসর্জন

                   বালিকা।

যে ললিত সুখে হৃদয় অধীর

মনে হল তাহা গত যামিনীর

স্খলিত দলিত শুষ্ক কামিনীর

                   মালিকা।

বাতায়ন খুলে যায় ঘরে ঘরে,

ঘুমভাঙা আঁখি ফুটে থরে থরে

অন্ধকার পথ কৌতূহলভরে

                   নেহারি।

“জাগো, ভিক্ষা দাও’ সবে ডাকি ডাকি

সুপ্ত সৌধে তুলি নিদ্রাহীন আঁখি

শূন্য রাজবাটে চলেছে একাকী

                   ভিখারি।

ফেলি দিল পথে বণিকধনিকা

মুঠি মুঠি তুলি রতনকণিকা–

কেহ কণ্ঠহার, মাথার মণিকা

                   কেহ গো।

ধনী স্বর্ণ আনে থালি পূরে পূরে,

সাধু নাহি চাহে, পড়ে থাকে দূরে–

ভিক্ষু কহে, “ভিক্ষা আমার প্রভুরে

                   দেহো গো।’

বসনে ভূষণে ঢাকি গেল ধূলি,

কনকে রতনে খেলিল বিজুলি,

সন্ন্যাসী ফুকারে লয়ে শূন্য ঝুলি

                   সঘনে–

“ওগো পৌরজন, করো অবধান,

ভিক্ষুশ্রেষ্ঠ তিনি বুদ্ধ ভগবান,

দেহো তারে নিজ সর্বশ্রেষ্ঠ দান

                   যতনে।’

ফিরে যায় রাজা, ফিরে যায় শেঠ,

মিলে না প্রভুর যোগ্য কোনো ভেট,

বিশাল নগরী লাজে রহে হেঁট-

                   আননে।

রৌদ্র উঠে ফুটে, জেগে উঠে দেশ,

মহানগরীর পথ হল শেষ,

পুরপ্রান্তে সাধু করিলা প্রবেশ

                   কাননে।

দীন নারী এক ভূতলশয়ন

না ছিল তাহার অশন ভূষণ,

সে আসি নমিল সাধুর চরণ-

                   কমলে।

অরণ্য-আড়ালে রহি কোনোমতে

একমাত্র বাস নিল গাত্র হতে,

বাহুটি বাড়ায়ে ফেলি দিল পথে

                   ভূতলে।

ভিক্ষু ঊর্ধ্বভুজে করে জয়নাদ–

কহে, “ধন্য মাতঃ, করি আশীর্বাদ,

মহাভিক্ষুকের পুরাইলে সাধ

                   পলকে।’

চলিলা সন্ন্যাসী ত্যজিয়া নগর

ছিন্ন চীরখানি লয়ে শিরোপর

সঁপিতে বুদ্ধের চরণনখর-

                    আলোকে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত