জীবন যখন শুকায়ে যায় , পূজা ৯৫ | Jibon jokhon shukaye jay  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত মোট গানের সংখ্যা ২২৩২।তার গানের কথায় উপনিষদ্‌, সংস্কৃত সাহিত্য, বৈষ্ণব সাহিত্য ও বাউল দর্শনের প্রভাব সুস্পষ্ট। অন্যদিকে তার গানের সুরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকি উভয় প্রকার) ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, টপ্পা, তরানা, ভজন ইত্যাদি ধারার সুর এবং সেই সঙ্গে বাংলার লোকসঙ্গীত, কীর্তন, রামপ্রসাদী, পাশ্চাত্য ধ্রুপদি সঙ্গীত ও পাশ্চাত্য লোকগীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

 

জীবন যখন শুকায়ে যায় , পূজা ৯৫ | Jibon jokhon shukaye jay

রাগ: দেশ

তাল: একতাল

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৮ চৈত্র, ১৩১৬

 

জীবন যখন শুকায়ে যায়:

 

জীবন যখন শুকায়ে যায়

করুণাধারায় এসো।

সকল মাধুরী লুকায়ে যায়,

গীতসুধারসে এসো।

কর্ম যখন প্রবল-আকার

গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার,

হৃদয়প্রান্তে হে জীবননাথ,

শান্তচরণে এসো।

আপনারে যবে করিয়া কৃপণ

কোণে পড়ে থাকে দীনহীন মন,

দুয়ার খুলিয়া হে উদার নাথ,

রাজ-সমারোহে এসো।

বাসনা যখন বিপুল ধুলায়

অন্ধ করিয়া অবোধে ভুলায়

ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র,

রুদ্র আলোকে এসো।

 

 

রবীন্দ্রনাথের সকল গান গীতবিতান নামক সংকলন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ১ম ও ২য় খণ্ডে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার গানগুলিকে ‘পূজা’, ‘স্বদেশ’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘বিচিত্র’ও ‘আনুষ্ঠানিক’ – এই ছয়টি পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর গীতবিতান গ্রন্থের প্রথম দুই খণ্ডে অসংকলিত গানগুলি নিয়ে ১৯৫০ সালে উক্ত গ্রন্থের ৩য় খণ্ড প্রকাশিত হয়। এই খণ্ডে প্রকাশিত গানগুলি ‘গীতিনাট্য’, ‘নৃত্যনাট্য’, ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’, ‘নাট্যগীতি’, ‘জাতীয় সংগীত’, ‘পূজা ও প্রার্থনা’, ‘আনুষ্ঠানিক সংগীত, ‘প্রেম ও প্রকৃতি’ ইত্যাদি পর্যায়ে বিন্যস্ত। ৬৪ খণ্ডে প্রকাশিত স্বরবিতান গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় গানের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন