Table of Contents
শিশু ভোলানাথ কাব্যগ্রন্থের ইচ্ছামতী কবিতা
ইচ্ছামতী কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | ইচ্ছামতী |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শিশু ভোলানাথ |
| প্রকাশের বছর | ১৯২২ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | শিশুতোষ ও কল্পনামূলক লিরিক কবিতা (Children’s Imaginative Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
ইচ্ছামতী কবিতা (সম্পূর্ণ):
যখন যেমন মনে করি
তাই হতে পাই যদি
আমি তবে একখানি হই
ইচ্ছামতী নদী।
রৈবে আমার দখিন ধারে
সূর্য ওঠার পার,
বাঁয়ের ধারে সন্ধ্যেবেলায়
নামবে অন্ধকার।
আমি কইব মনের কথা
দুই পারেরি সাথে,
আধেক কথা দিনের বেলায়,
আধেক কথা রাতে।
যখন ঘুরে ঘুরে বেড়াই
আপন গাঁয়ের ঘাটে
ঠিক তখনি গান গেয়ে যাই
দূরের মাঠে মাঠে
গাঁয়ের মানুষ চিনি, যারা
নাইতে আসে জলে,
গোরু মহিষ নিয়ে যারা
সাঁতরে ওপার চলে।
দূরের মানুষ যারা তাঁদের
নতুনতরো বেশ,
নাম জানি নে, গ্রাম জানি নে
অদ্ভুতের একশেষ।
জলের উপর ঝলোমলো
টুকরো আলোর রাশি।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে পরীর নাচন,
হাততালি আর হাসি।
নিচের তলায় তলিয়ে যেথায়
গেছে ঘাটের ধাপ
সেইখানেতে কারা সবাই
রয়েছে চুপচাপ।
কোণে কোণে আপন মনে
করছে তারা কী কে।
আমারি ভয় করবে কেমন
তাকাতে সেই দিকে।
গাঁয়ের লোকে চিনবে আমার
কেবল একটুখানি।
বাকি কোথায় হারিয়ে যাবে
আমিই সে কি জানি?
একধারেতে মাঠে ঘাটে
সবুজ বরন শুধু,
আর একধারে বালুর চরে
রৌদ্র করে ধু ধু।
দিনের বেলায় যাওয়া আসা,
রাত্তিরে থম থম!
ডাঙার পানে চেয়ে চেয়ে
করবে গা ছম ছম।
ইচ্ছামতী কবিতা সম্পূর্ণ Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- চেনা ও অচেনার মেলবন্ধন:“গাঁয়ের মানুষ চিনি, যারা / নাইতে আসে জলে, … দূরের মানুষ যারা তাঁদের / নতুনতরো বেশ, / নাম জানি নে, গ্রাম জানি নে / অদ্ভুতের একশেষ।”— ইচ্ছামতী নদী হয়ে শিশুটি একদিকে নিজের চেনা গাঁয়ের স্নানযাত্রী ও পশুপালকদের সাথে পরিচিত সান্নিধ্য উপভোগ করতে চায়, আবার অন্যদিকে অচেনা দূর-দেশী মানুষের অদ্ভুত বেশভূষা দেখে কল্পনার রোমাঞ্চে মাতোয়ারা হয়।
- আলো-আঁধারি ও সুরের দ্বৈতরূপ:“রৈবে আমার দখিন ধারে / সূর্য ওঠার পার, / বাঁয়ের ধারে সন্ধ্যেবেলায় / নামবে অন্ধকার।”— নদীটির এক পাড়ে সকালের উদীয়মান আলো এবং অপর পাড়ে সন্ধ্যার নীরব আঁধার। নদীর অস্তিত্বের মধ্য দিয়েই দিন ও রাত, আলো ও ছায়ার বৈপরীত্য এক অখণ্ড সুন্দর ধারায় রূপ লাভ করে।
- জলের গভীরে অজানার ভীতি:“নিচের তলায় তলিয়ে যেথায় / গেছে ঘাটের ধাপ / সেইখানেতে কারা সবাই / রয়েছে চুপচাপ। / কোণে কোণে আপন মনে / করছে তারা কী কে। / আমারি ভয় করবে কেমন / তাকাতে সেই দিকে।”— শিশুসুলভ কল্পনার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো গভীরের প্রতি অকারণ কৌতূহল ও ভয়। ঘাটের ডুবে যাওয়া ধাপের অন্ধকারে কারা যেন নিঃশব্দে বাস করে—এই চিন্তা নদী হয়েও শিশুর মনে এক মিষ্টি শিহরণ ও গা ছমছমে ভাব জাগিয়ে তোলে।