গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ‘ওই যে তরী দিল খুলে’ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (১৯১০)-র এটি একটি গভীর বৈরাগ্য ও অধ্যাত্ম-চেতনার সঙ্গীতধর্মী কবিতা (পরবর্তীকালে রবীন্দ্রসঙ্গীত হিসেবেও গীত)। মানুষের পার্থিব জীবনের মোহ, সম্পদ ও বৈষয়িক আসক্তিকে কবি এখানে “ঘরের বোঝা” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনন্ত পারাপারের তরী যখন ঘাট ছেড়ে ভেসে যায়, তখন মানুষ যদি নিজের অতীত ও সংসারের বোঝা পিঠে নিয়ে কূলে দাঁড়িয়ে দ্বিধা করে, তবে সে চিরদিনের মতো একা ও বঞ্চিত হয়ে পড়ে। মুক্তির আনন্দ পেতে হলে পার্থিব সঞ্চয়ের বোঝা ভাসিয়ে দিয়ে নিঃশঙ্ক চিত্তে জীবনকে পরমসত্তার চরণে নিঃশেষে সঁপে দেওয়াই এ রচনার মূল বাণী।

ওই যে তরী-দিল খুলে পুরো কবিতা:

ওই যে তরী-দিল খুলে।

       তোর বোঝা কে নেবে তুলে।

                    সামনে যখন যাবি ওরে

                    থাক্‌ না পিছন পিছে পড়ে,

                    পিঠে তারে বইতে গেলি,

                           একলা পড়ে রইলি কূলে।

       ঘরের বোঝা টেনে টেনে।

       পারের ঘাটে রাখলি এনে,

       তাই যে তোরে বারে বারে

                    ফিরতে হল গেলি ভুলে।

                           ডাক রে আবার মাঝিরে ডাক,

                           বোঝা তোমার যাক ভেসে যাক,

                           জীবনখানি উজাড় করে

                                  সঁপে দে তার চরণমূলে।

 

Oi je tori—dil khule full kobita Romanized version.

Oi je tori—dil khule.

Tor bojha ke nebe tule.

Samne jokhon jabi ore
Thak na pichhon pichhe pore,
Pithe tare boi te geli,
Ekla pore roili kule.

Ghorer bojha tene tene,
Parer ghate rakhli ene,
Tai je tore bare bare
Phirte holo geli bhule.

Dak re abar majhire dak,
Bojha tomar jak bhese jak,
Jibonkhani ujar kore
Sompe de tar choronmule.

বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট:
  • আসক্তি বনাম মুক্তি: মানুষ সারা জীবন সংসারে যা সঞ্চয় করে, মৃত্যুর বা পারাপারের ঘাটে এসেও সে তা ছাড়তে পারে না। সেই ভার বইতে গিয়েই বারে বারে মুক্তির তরী হাতছাড়া হয়। কবি স্মরণ করিয়ে দেন—সামনে এগোতে হলে অতীত ও সংসারের সংস্কারকে পেছনে ফেলে আসতে হয়।
  • আত্মনিবেদন ও পরম আত্মসমর্পণ: সংসারের সঞ্চিত বোঝা নদীতে ভেসে গেলেও কোনো ক্ষতি নেই; মাঝিকে পুনরায় ডেকে নিজের সমগ্র জীবনখানি উজাড় করে তাঁর চরণমূলে সমর্পণ করাই আত্মিক পরিত্রাণের একমাত্র পথ।
গান বা কবিতাটির প্রামাণ্য সুর, স্বরলিপি ও সম্পূর্ণ অনুমোদিত পাঠের জন্য বিশ্বভারতী প্রকাশিত ‘গীতবিতান’ বা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি দেখে নিতে পারেন অথবা ইন্টারনেটে গুগল সার্চ করে এর পূর্ণাঙ্গ লিরিক অনুসন্ধান করতে পারেন।

মন্তব্য করুন