Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | প্রার্থনা |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | খেয়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯০৬ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আত্মনিবেদন, প্রকৃতি-প্রেম ও প্রার্থনামূলক লিরিক কবিতা (Devotional, Nature and Prayer Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
প্রার্থনা – সম্পূর্ণ কবিতা
আমি বিকাব না কিছুতে আর
আপনারে।
আমি দাঁড়াতে চাই সভার তলে
সবার সাথে এক সারে।
সকালবেলার আলোর মাঝে
মলিন যেন না হই লাজে,
আলো যেন পশিতে পায়
মনের মধ্যে একবারে।
বিকাব না, বিকাব না
আপনারে।
আমি বিশ্ব-সাথে রব সহজ
বিশ্বাসে।
আমি আকাশ হতে বাতাস নেব
প্রাণের মধ্যে নিশ্বাসে।
পেয়ে ধরার মাটির স্নেহ
পুণ্য হবে সর্ব দেহ,
গাছের শাখা উঠবে দুলে
আমার মনের উল্লাসে।
বিশ্বে রব সহজ সুখে
বিশ্বাসে।
আমি সবায় দেখে খুশি হব
অন্তরে।
কিছু বেসুর যেন বাজে না আর
আমার বীণা-যন্তরে।
যাহাই আছে নয়ন ভরি
সবই যেন গ্রহণ করি,
চিত্তে নামে আকাশ-গলা
আনন্দিত মন্ত্র রে।
সবায় দেখে তৃপ্ত রব
অন্তরে।

Romanized Version
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- আত্মমর্যাদা ও সমতা:
“আমি বিকাব না কিছুতে আর / আপনারে। / আমি দাঁড়াতে চাই সভার তলে / সবার সাথে এক সারে।”— জাগতিক লাভ, মোহ বা প্রলোভনের কাছে নিজের সত্তাকে কোনোভাবেই বিক্রি না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন কবি। তিনি চান নিজের বিশেষত্বের অহংকার ত্যাগ করে সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে এক কাতারে সমান হয়ে দাঁড়াতে।
- প্রকৃতির সাথে একাত্মতা:
“আমি বিশ্ব-সাথে রব সহজ / বিশ্বাসে। … পেয়ে ধরার মাটির স্নেহ / পুণ্য হবে সর্ব দেহ,”— বিশ্বপ্রকৃতির সহজ নিয়মের মাঝে কবি নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিতে চান। পৃথিবীর মাটির স্নেহ ও আকাশের বাতাসে তিনি নিজের প্রাণকে পুণ্য করতে চান, যেন তাঁর নিজের অন্তরের উল্লাসেই বাইরের গাছের শাখা দুলে ওঠে। এটি মূলত প্রকৃতির সাথে মানবাত্মার নিবিড় ঐক্যের প্রকাশ।
- অন্তরের তৃপ্তি ও প্রশান্তি:
“সবায় দেখে খুশি হব / অন্তরে। / কিছু বেসুর যেন বাজে না আর / আমার বীণা-যন্তরে।”— পৃথিবীর সব কিছুকে সহজভাবে গ্রহণ করে অন্তরে তৃপ্তি পাওয়ার প্রার্থনা। জীবনের বীণায় যেন কোনো স্বার্থপরতা বা অহংকারের বেসুর না বাজে, বরং চারপাশের সবকিছুকে ভালোবেসে হৃদয় যেন আকাশ-গলা আনন্দের মন্ত্রে পূর্ণ হয়ে ওঠে।