আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

দিঘি কবিতা [ Dighi kobita ]

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : খেয়া [ ১৯০৬ ]

কবিতার শিরনামঃ দিঘি 

দিঘি কবিতা [ Dighi kobita ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

জুড়ালো রে দিনের দাহ, ফুরালো সব কাজ,

          কাটল সারা দিন।

সামনে আসে বাক্যহারা স্বপ্নভরা রাত

          সকল-কর্ম-হীন।

তারি মাঝে দিঘির জলে যাবার বেলাটুকু

          একটুকু সময়

সেই গোধূলি এল এখন, সূর্য ডুবু-ডুবু–

          ঘরে কি মন রয়।

কূলে কূলে পূর্ণ নিটোল গভীর ঘন কালো

          শীতল জলরাশি,

নিবিড় হয়ে নেমেছে তায় তীরের তরু হতে

          সকল ছায়া আসি।

দিনের শেষে শেষ আলোটি পড়েছে ওই পারে

          জলের কিনারায়,

পথে চলতে বধূ যেমন নয়ন রাঙা ক’রে

          বাপের ঘরে চায়।

শেওলা-পিছল পৈঁঠা বেয়ে নামি জলের তলে

                     একটি একটি করে,

           ডুবে যাবার সুখে আমার ঘটের মতো যেন

                     অঙ্গ উঠে ভরে।

           ভেসে গেলেম আপন-মনে, ভেসে গেলেম পারে,

                     ফিরে এলেম ভেসে–

           সাঁতার দিয়ে চলে গেলেম, চলে এলেম যেন

                     সকল-হারা দেশে।

 

           ওগো বোবা, ওগো কালো, স্তব্ধ সুগম্ভীর

                     গভীর ভয়ংকর,

           তুমি নিবিড় নিশীথ-রাত্রি বন্দী হয়ে আছ–

                     মাটির পিঞ্জর।

           পাশে তোমার ধুলার ধরা কাজের রঙ্গভূমি,

                     প্রাণের নিকেতন,

           হঠাৎ থেমে তোমার ‘পরে নত হয়ে প’ড়ে

                     দেখিছে দর্পণ।

           তীরের কর্ম সেরে আমি গায়ের ধুলো নিয়ে

                     নামি তোমার মাঝে–

           এ কোন্‌ অশ্রুভরা গীতি ছল্‌ছলিয়ে উঠে

                     কানের কাছে বাজে।

           ছায়া-নিচোল দিয়ে ঢাকা মরণ-ভরা তব

                     বুকের আলিঙ্গন

           আমায় নিল কেড়ে নিল সকল বাঁধা হতে,

                     কাড়িল মোর মন।

           শিউলি-শাখে কোকিল ডাকে করুণ কাকলিতে

                     ক্লান্ত আশার ডাক।

           ম্লান ধূসর আকাশ দিয়ে দূরে কোথায় নীড়ে

                     উড়ে গেল কাক।

           মর্মরিয়া মর্মরিয়া বাতাস গেল মরে

                     বেণুবনের তলে,

           আকাশ যেন ঘনিয়ে এল ঘুমঘোরের মতো

                     দিঘির কালো জলে।

           সন্ধ্যাবেলার প্রথম তারা উঠল গাছের আড়ে,

                     বাজল দূরে শাঁখ।

           রন্ধ#বিহীন অন্ধকারে পাখার শব্দ মেলে

                     গেল বকের ঝাঁক।

           পথে কেবল জোনাক জ্বলে, নাইকো কোনো আলো

                     এলেম যবে ফিরে–

           দিন ফুরালো, রাত্রি এল, কাটল মাঝের বেলা

                     দিঘির কালো নীরে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত