আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

অভিসার কবিতা । abhisar Kobita | কথা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

অভিসার কবিতা [ abhisar Kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কথা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ কথা

কবিতার নামঃ অভিসার

অভিসার কবিতা । abhisar Kobita | কথা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বোধিসত্তাবদান-কল্পলতা

          সন্ন্যাসী উপগুপ্ত

মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে

          একদা ছিলেন সুপ্ত–

নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,

দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,

নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে

          ঘন মেঘে অবলুপ্ত।

কাহার নূপুরশিঞ্জিত পদ

          সহসা বাজিল বক্ষে!

সন্ন্যাসীবর চমকি জাগিল,

স্বপ্নজড়িমা পলকে ভাগিল,

রূঢ় দীপের আলোক লাগিল

          ক্ষমাসুন্দর চক্ষে।

নগরীর নটী চলে অভিসারে

          যৌবনমদে মত্তা।

অঙ্গ আঁচল সুনীল বরন,

রুনুঝুনু রবে বাজে আভরণ–

সন্ন্যাসী-গায়ে পড়িতে চরণ

          থামিল বাসবদত্তা।

প্রদীপ ধরিয়া হেরিল তাঁহার

          নবীন গৌরকান্তি–

সৌম্য সহাস তরুণ বয়ান,

করুণাকিরণে বিকচ নয়ান,

শুভ্র ললাটে ইন্দুসমান

          ভাতিছে স্নিগ্ধ শান্তি।

কহিল রমণী ললিত কণ্ঠে,

          নয়নে জড়িত লজ্জা,

ক্ষমা করো মোরে কুমার কিশোর,

দয়া করো যদি গৃহে চলো মোর,

এ ধরণীতল কঠিন কঠোর

          এ নহে তোমার শয্যা।’

সন্ন্যাসী কহে করুণ বচনে,

          “অয়ি লাবণ্যপুঞ্জ,

এখনো আমার সময় হয় নি,

যেথায় চলেছ যাও তুমি ধনী,

সময় যেদিন আসিবে আপনি

          যাইব তোমার কুঞ্জ,’

সহসা ঝঞ্ঝা তড়িৎশিখায়

          মেলিল বিপুল আস্য।

রমণী কাঁপিয়া উঠিল তরাসে,

প্রলয়শঙ্খ বাজিল বাতাসে,

আকাশে বজ্র ঘোর পরিহাসে

          হাসিল অট্টহাস্য।

             বর্ষ তখনো হয় নাই শেষ,

          এসেছে চৈত্রসন্ধ্যা।

বাতাস হয়েছে উতলা আকুল,

পথতরুশাখে ধরেছে মুকুল,

রাজার কাননে ফুটেছে বকুল

          পারুল রজনীগন্ধা।

অতি দূর হতে আসিছে পবনে

          বাঁশির মদির মন্দ্র।

জনহীন পুরী, পুরবাসী সবে

গেছে মধুবনে ফুল-উৎসবে–

শূন্য নগরী নিরখি নীরবে

          হাসিছে পূর্ণচন্দ্র।

নির্জন পথে জ্যোৎস্না-আলোতে

          সন্ন্যাসী একা যাত্রী।

মাথার উপরে তরুবীথিকার

কোকিল কুহরি উঠে বারবার,

এতদিন পরে এসেছে কি তাঁর

          আজি অভিসাররাত্রি?

নগর ছাড়ায়ে গেলেন দণ্ডী

          বাহিরপ্রাচীরপ্রান্তে।

দাঁড়ালেন আসি পরিখার পারে–

আম্রবনের ছায়ার আঁধারে

কে ওই রমণী প’ড়ে এক ধারে

          তাঁহার চরণোপ্রান্তে!

নিদারুণ রোগে মারীগুটিকায়

          ভরে গেছে তার অঙ্গ–

রোগমসীঢালা কালী তনু তার

লয়ে প্রজাগণে পুরপরিখার

বাহিরে ফেলেছে, করি’ পরিহার

          বিষাক্ত তার সঙ্গ।

সন্ন্যাসী বসি আড়ষ্ট শির

          তুলি নিল নিজ অঙ্কে–

ঢালি দিল জল শুষ্ক অধরে,

মন্ত্র পড়িয়া দিল শির-‘পরে,

লেপি দিল দেহ আপনার করে

          শীতচন্দনপঙ্কে।

ঝরিছে মুকুল, কূজিছে কোকিল,

          যামিনী জোছনামত্তা।

“কে এসেছ তুমি ওগো দয়াময়’

শুধাইল নারী, সন্ন্যাসী কয়–

“আজি রজনীতে হয়েছে সময়,

          এসেছি বাসবদত্তা!’

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত