বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতালি’ (১৯১৪) কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম মরমী, ভক্তিমূলক ও আত্মিক উপলব্ধির গীতি-কবিতা হলো ‘হৃদয় আমার প্রকাশ হল’। এই কবিতায় ভক্তের অন্তরের একান্ত গোপন অনুভূতি ও বেদনা যখন অনন্ত আকাশের সাথে মিশে যায় এবং পরমেশ্বরের সাথে জীবাত্মার মিলনের পরম রূপটি উন্মোচিত হয়, তা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
![গীতালি কাব্যগ্রন্থের 'হৃদয় আমার প্রকাশ হল' কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 হৃদয় আমার প্রকাশ হল hridoy amar prokash holo [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/12/Rabindranath-Tagore-and-Sudhindra-Bose-e1649583347637-194x300.jpg)
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | হৃদয় আমার প্রকাশ হল |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | গীতালি |
| প্রকাশের বছর | ১৯১৪ (১৩২১ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আধ্যাত্মিক ও মরমী গীতি-কবিতা (Spiritual and Mystical Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
হৃদয় আমার প্রকাশ হল কবিতা (সম্পূর্ণ)
হৃ-দয় আমার প্রকাশ হল
অনন্ত আকাশে।
বেদন-বাঁশি উঠল বেজে
বাতাসে বাতাসে।
এই যে আলোর আকুলতা
আমারি এ আপন কথা,
উদাস হয়ে প্রাণে আমার
আবার ফিরে আসে।
বাইরে তুমি নানা বেশে
ফের নানান ছলে;
জানি নে তো আমার মালা
দিয়েছি কার গলে।
আজ কী দেখি পরানমাঝে
তোমার গলায় সব মালা যে,
সব নিয়ে শেষ ধরা দিলে
গভীর সর্বনাশে।
সেই কথা আজ প্রকাশ হল
অনন্ত আকাশে।

হৃদয় আমার প্রকাশ হল কবিতার Romanized Version:
- হৃদয়ের প্রকাশ ও অনন্ত আকাশের বিস্তার:“হৃ-দয় আমার প্রকাশ হল / অনন্ত আকাশে। / বেদন-বাঁশি উঠল বেজে / বাতাসে বাতাসে।”— হৃদয়ের একান্ত গোপন বেদনা ও আকুলতা আজ আর ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা অনন্ত আকাশের বিশালতায় উন্মুক্ত হয়ে বাতাসে বাতাসে বেদনাবাঁশির সুর তুলছে।
- আলোর আকুলতা ও স্মৃতির প্রত্যাবর্তন:“এই যে আলোর আকুলতা / আমারি এ আপন কথা, / উদাস হয়ে প্রাণে আমার / আবার ফিরে আসে।”— চারপাশের আলোর এই ব্যাকুলতা ও দীপ্তি আসলে কবির নিজেরই মনের কথা। সেই উদাস অনুভূতি বারবার ফিরে এসে তাঁর প্রাণকে আলোড়িত করে।
- নানা বেশের অন্তরালে পরম প্রভুর সন্ধান:“বাইরে তুমি নানা বেশে / ফের নানান ছলে; / জানি নে তো আমার মালা / দিয়েছি কার গলে।”— স্রষ্টা বা পরম প্রিয় মানুষটি নানা রূপ ও ছলে বাইরে ঘুরে বেড়ান। ভক্ত না বুঝেই তাঁর সমস্ত অর্ঘ্য বা মালা আসলে কার গলায় পরিয়ে দিয়েছিল, তা প্রথমে সে টের পায়নি।
- পরানমাঝে মিলন ও গভীর সর্বনাশ:“আজ কী দেখি পরানমাঝে / তোমার গলায় সব মালা যে, / সব নিয়ে শেষ ধরা দিলে / গভীর সর্বনাশে।”— আজ অন্তরের গভীরে তাকাতেই দেখা গেল, সেই সমস্ত মালা ও অর্ঘ্য গিয়ে উঠেছে স্বয়ং ঈশ্বরের গলায়। সবকিছু উজাড় করে দিয়ে এই যে সর্বগ্রাসী আত্মসমর্পণ বা ‘গভীর সর্বনাশ’, তার মাধ্যমেই পরম প্রাপ্তি ও মিলনের সত্য প্রকাশ পায়।




![মাধো madho [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 3 মাধো madho [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/মাধো-madho-কবিতা--1024x536.gif)
![সুধিয়া sudhiya [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 4 সুধিয়া sudhiya [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/সুধিয়া-sudhiya-কবিতা--1024x536.gif)

