বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চৈতালী’ (১৮৯৬) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি গভীর সমাজচেতনামূলক, রূপকধর্মী ও দার্শনিক সৃষ্টি হলো ‘দুই উপমা’। এই কবিতায় স্থবির ও গতিহীন নদী এবং সমাজের অন্ধ লোকাচারের সাথে তুলনা করে গতিশীলতা ও জীবনের জয়গান অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | দুই উপমা |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | চৈতালী |
| প্রকাশের বছর | ১৮৯৬ (আশ্বিন, ১৩০৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | সমাজ-দার্শনিক ও রূপকধর্মী লিরিক কবিতা (Philosophical Allegorical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
১৮৯৬ সালে প্রকাশিত ‘চৈতালী’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যযাত্রার “চিত্রা-চৈতালি পর্ব”-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ছোট আকারের লিরিক কবিতার সংকলন। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে গ্রামীণ প্রকৃতি, মানবজীবনের সুখ-দুঃখ এবং সমাজের নানা রূপ অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ‘দুই উপমা’ কবিতায় কবি দুটি চমৎকার উপমার মাধ্যমে গতিহীনতা ও জড়তার সমালোচনা করেছেন। প্রথম উপমাটি নদী ও শৈবালের—যে নদী তার স্রোত হারিয়ে ফেলে, তাকে ঘিরে ধরে হাজারো শৈবালদাম। ঠিক তেমনি যে জাতি জীবনহারা ও অচল, তাকে পদে পদে আটকে রাখে জীর্ণ লোকাচার। দ্বিতীয় উপমাটি জনবহুল ও প্রচলিত পথের—যে পথে সর্বক্ষণ মানুষ চলে, সেথা কোনো তৃণগুল্ম বা নতুন কিছু জন্মায় না; তেমনি যে জাতি নিজে চলে না বা পরিবর্তনকে গ্রহণ করে না, তাদের অন্ধ তন্ত্র-মন্ত্র ও সংহিতায় পদে পদে পায়ে বেড়ি পড়ে। সমাজকে গতিশীল রাখার এবং গতানুগতিকতা ভাঙার এক প্রচ্ছন্ন আহ্বান রয়েছে এই কবিতায়।
দুই উপমা কবিতা (সম্পূর্ণ)
যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে
সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে;
যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়
পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।
সর্বজন সর্বক্ষণ চলে যেই পথে
তৃণগুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোনোমতে;
যে জাতি চলে না কভু তারি পথ-‘পরে
তন্ত্র-মন্ত্র-সংহিতায় চরণ না সরে।
দুই উপমা কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- গতিশীলতাই জীবন: স্রোতহীন নদীর মতো যে সমাজ বা জাতি স্থবির হয়ে পড়ে, তাদের কুসংস্কার ও জীর্ণ লোকাচার ঘিরে ধরে—এটিই কবিতার মূল বার্তা।
- নতুনত্বের পথ: গতানুগতিক ও জনবহুল পথের অন্ধ অনুকরণে মুক্তির পথ মেলে না, জীবনের অগ্রগতির জন্য সচল ও স্বাধীন চেতনা প্রয়োজন।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (চৈতালী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

![প্রচ্ছন্না prochchhonna [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচ্ছন্না prochchhonna [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/প্রচ্ছন্না-prochchhonna-কবিতা--1024x536.gif)








![পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের ‘পৃথিবী’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবী কবিতা [ পুত্রপুট কাব্যগ্রন্থ ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Prithibi Kobita by Rabindranath Tagore ]](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/06/পৃথিবী-কবিতা-1024x576.gif)