বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চৈতালী’ (১৮৯৬) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি আবেগঘন, রূপকধর্মী ও বিচ্ছেদান্তক সৃষ্টি হলো ‘শেষ চুম্বন’। এই কবিতায় রাতের শেষ প্রহর ও প্রভাতের সূচনার পটভূমিতে জীবনের দুই কাছের মানুষের অন্তিম বিদায়, প্রেমের স্নিগ্ধতা এবং নির্মম বাস্তবের কঠোর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | শেষ চুম্বন |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | চৈতালী |
| প্রকাশের বছর | ১৮৯৬ (আশ্বিন, ১৩০৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | প্রেম, বিচ্ছেদ ও প্রতীকী প্রভাত কবিতা (Romantic Elegiac Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
১৮৯৬ সালে প্রকাশিত ‘চৈতালী’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যযাত্রার “চিত্রা-চৈতালি পর্ব”-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ছোট আকারের লিরিক কবিতার সংকলন। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে গ্রামীণ প্রকৃতি, মানবজীবনের সুখ-দুঃখ এবং অন্তরের নিবিড় ভাবসৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। ‘শেষ চুম্বন’ কবিতায় রাতের অন্তিম মুহূর্ত এবং প্রভাতের রূপকে জীবনের একটি কঠিন সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে। ঊষার করুণ চাঁদ, নিভে যাওয়া প্রদীপশিখা এবং যামিনীর স্বপ্নযবনিকা খসে পড়ার মধ্য দিয়ে রাতের রোমান্টিক স্থবিরতা ভেঙে যায়। প্রভাতের নির্মম রক্তরশ্মি ও কর্মমুখর সংসারের ঘর্ঘরমন্দ্র ঘোষণা করে বিচ্ছেদের ঘণ্টা। অশ্রুজল মুছে ফেলে দুটি মানুষকে যখন নিজেদের চিরচেনা আশ্রয় ছেড়ে সংসারের পথে বেরিয়ে পড়তে হয়, সেই চরম বিয়োগান্তক ও বাস্তব মুহূর্তটিই কবিতার মূল প্রাণ।
শেষ চুম্বন কবিতা (সম্পূর্ণ)
দূর স্বর্গে বাজে যেন নীরব ভৈরবী।
ঊষার করুণ চাঁদ শীর্ণমুখচ্ছবি।
ম্লান হয়ে এল তারা; পূর্বদিগ্বধূর
কপোল শিশিরসিক্ত, পান্ডুর, বিধুর।
ধীরে ধীরে নিবে গেল শেষ দীপশিখা,
খসে গেল যামিনীর স্বপ্নযবনিকা।
প্রবেশিল বাতায়নে পরিতাপসম
রক্তরশ্মি প্রভাতের আঘাত নির্মম।
সেইক্ষণে গৃহদ্বারে সত্বর সঘন
আমাদের সর্বশেষ বিদায়-চুম্বন।
মুহূর্তে উঠিল বাজি চারি দিক হতে
কর্মের ঘর্ঘরমন্দ্র সংসারের পথে।
মহারবে সিংহদ্বার খুলে বিশ্বপুরে–
অশ্রুজল মুছে ফেলি চলি গেনু দূরে।
শেষ চুম্বন কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- প্রকৃতির রূপকে বিচ্ছেদের প্রকাশ: রাতের অবসান ও ভোরের আগমনকে কেবল সময়ের পরিবর্তন হিসেবে না দেখিয়ে, তা প্রেমিক-প্রেমিকার অন্তিম বিচ্ছেদ ও বাস্তবের নিষ্ঠুর আহ্বানের প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- প্রেম বনাম কর্মজগৎ: ব্যক্তিগত অনুভূতির স্নিগ্ধতা ও প্রেমের বিদায়লগ্নের পর সংসারের ঘর্ঘরমন্দ্র এবং কঠোর বাস্তবতায় হারিয়ে যাওয়ার বেদনা এই কবিতার মূল সুর।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (চৈতালী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।







![সুখের বিলাপsukher bilaap [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুখের বিলাপsukher bilaap [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/সুখের-বিলাপsukher-bilaap-কবিতা--1024x536.gif)

![তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম – প্রেম ৬২ [ Tumi robe nirobe lyrics ] তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম - প্রেম ৬২ [ Tumi robe nirobe lyrics ]](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/01/maxresdefault-1024x576.jpg)
