আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বিরহানন্দ কবিতা । birohanando kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিরহানন্দ কবিতা [ birohanando kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর মানসী  কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ মানসী 

কবিতার নামঃ বিরহানন্দ

বিরহানন্দ কবিতা । birohanando kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই ছন্দে যে যে স্থানে ফাঁক সেইখানে দীর্ঘ যতিপতন আবশ্যক

               ছিলাম নিশিদিন    আশাহীন    প্রবাসী

               বিরহতপোবনে    আনমনে    উদাসী।

               আঁধারে আলো মিশে    দিশে দিশে    খেলিত;

               অটবী বায়ুবশে    উঠিত সে    উছাসি।

               কখনো ফুল দুটো    আঁখিপুট    মেলিত,

               কখনো পাতা ঝরে    পড়িত রে    নিশাসি।

               তবু সে ছিনু ভালো   আধা-আলো-    আঁধারে,

               গহন শত-ফের    বিষাদের    মাঝারে।

               নয়নে কত ছায়া    কত মায়া    ভাসিত,

               উদাস বায়ু সে তো    ডেকে যেত    আমারে।

               ভাবনা কত সাজে    হৃদিমাঝে    আসিত,

               খেলাত অবিরত    কত শত    আকারে!

               বিরহপরিপূত    ছায়াযুত    শয়নে,

               ঘুমের সাথে স্মৃতি    আসে নিতি    নয়নে।

               কপোত দুটি ডাকে    বসি শাখে    মধুরে,

               দিবস চলে যায়    গলে যায়    গগনে।

               কোকিল কুহুতানে    ডেকে আনে    বধূরে,

               নিবিড় শীতলতা    তরুলতা    গহনে।

               আকাশে চাহিতাম    গাহিতাম    একাকী,

               মনের যত কথা    ছিল সেথা    লেখা কি?

               দিবসনিশি ধ’রে    ধ্যান ক’রে    তাহারে

               নীলিমা-পরপার    পাব তার    দেখা কি?

               তটিনী অনুখন    ছোটে কোন্‌    পাথারে,

               আমি যে গান গাই   তারি ঠাঁই    শেখা কি?

               বিরহে তারি নাম    শুনিতাম    পবনে,

               তাহারি সাথে থাকা    মেঘে ঢাকা    ভবনে।

               পাতার মরমর    কলেবর    হরষে;

               তাহারি পদধ্বনি    যেন গণি    কাননে!

               মুকূল সুকুমার    যেন তার    পরশে,

               চাঁদের চোখে ক্ষুধা    তারি সুধা    স্বপনে।

               করুণা অনুখন    প্রাণ মন    ভরিত,

               ঝরিলে ফুলদল    চোখে জল    ঝরিত।

               পবন হুহু করে    করিত রে    হাহাকার,

               ধরার তরে যেন    মোর প্রাণ    ঝুরিত।

               হেরিলে দুখে শোকে    কারো চোখে    আঁখিধার

               তোমারি আঁখি কেন    মনে যেন    পড়িত।

               শিশুরে কোলে নিয়ে    জুড়াইয়ে    যেত বুক,

               আকাশে বিকশিত    তোরি মতো    স্নেহমুখ।

               দেখিলে আঁখি-রাঙা    পাখা-ভাঙা    পাখিটি

               “আহাহা” ধ্বনি তোর    প্রাণে মোর    দিত দুখ।

               মুছালে দুখনীর    দুখিনীর    আঁখিটি,

               জাগিত মনে ত্বরা    দয়া-ভরা    তোর সুখ।

               সারাটা দিনমান    রচি গান    কত-না!

               তোমারি পাশে রহি    যেন কহি    বেদনা।

               কানন মরমরে    কত স্বরে    কহিত,

               ধ্বনিত যেন দিশে  তোমারি সে    রচনা।

               সতত দূরে কাছে   আগে পাছে    বহিত

               তোমারি যত কথা    পাতা-লতা    ঝরনা।

               তোমারে আঁকিতাম,    রাখিতাম    ধরিয়া

               বিরহ ছায়াতল    সুশীতল    করিয়া।

               কখনো দেখি যেন    ম্লান-হেন    মুখানি,

               কখনো আঁখিপুটে    হাসি উঠে    ভরিয়া।

               কখনো সারা রাত    ধরি হাত    দুখানি

               রহি গো বেশবাসে    কেশপাশে    মরিয়া।

               বিরহ সুমধুর    হল দূর    কেন রে?

               মিলনদাবানলে    গেল জ্বলে    যেন রে।

               কই সে দেবী কই?   হেরো ওই    একাকার,

               শ্মশানবিলাসিনী    বিবাসিনী    বিহরে।

               নাই গো দয়ামায়া    স্নেহছায়া    নাহি আর–

               সকলি করে ধুধু,    প্রাণ শুধু    শিহরে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত