আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

শেষ প্রহরে shesh prohore [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

শেষ প্রহরে shesh prohore [ কবিতা ]

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শ্যামলী [ ১৯৩৬ ]

কবিতার শিরোনামঃ শেষ প্রহরে

শেষ প্রহরে shesh prohore [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভালোবাসার বদলে দয়া

            যৎসামান্য সেই দান,

        সেটা হেলাফেলারই স্বাদ ভোলানো

পথের পথিকও পারে তা বিলিয়ে দিতে

    পথের ভিখারিকে,

             শেষে ভুলে যায় বাঁক পেরোতেই।

        তার বেশি আশা করি নি সেদিন।

    চলে গেলে তুমি রাতের শেষ প্রহরে।

      মনে ছিল, বিদায় নিয়ে যাবে,

         শুধু বলে যাবে, “তবে আসি।’

    যে কথা আর-একদিন বলেছিলে,

           যা আর কোনোদিন শুনব না,

             তার জায়গায় ওই দুটি কথা,

      ওইটুকু দরদের সরু বুনোনিতে যেটুকু বাঁধন পড়ে

   তাও কি সইত না তোমার।

      প্রথম ঘুম যেমনি ভেঙেছে

            বুক উঠেছে কেঁপে,

      ভয় হয়েছে সময় বুঝি গেল পেরিয়ে।

           ছুটে এলেম বিছানা ছেড়ে।

    দূরে গির্জের ঘড়িতে বাজল সাড়ে বারোটা।

           রইলেম বসে আমার ঘরের চৌকাঠে

   দরজায় মাথা রেখে–

    তোমার বেরিয়ে যাবার বারান্দার সামনে।

            অতি সামান্য একটুখানি সুযোগ

অভাগীর ভাগ্য তাও নিল ছিনিয়ে,

    পড়লেম ঘুমে ঢলে

          তুমি যাবার কিছু আগেই।

আড়চোখে বুঝি দেখলে চেয়ে

           এলিয়ে-পড়া দেহটা–

      ডাঙায়-তোলা ভাঙা নৌকোটা যেন।

বুঝি সাবধানেই গেছ চলে,

        ঘুম ভাঙে পাছে।

           চমকে জেগে উঠেই বুঝেছি

        মিছে হয়েছে জাগা।

           বুঝেছি, যা যাবার তা গেছে এক নিমেষেই–

   যা পড়ে থাকবার তাই রইল পড়ে

            যুগযুগান্তর।

   চুপচাপ চারি দিক–

           যেমন চুপচাপ পাখিহারা পাখির বাসা।

   গানহারা গাছের ডালে।

     কৃষ্ণসপ্তমীর মিইয়ে-পড়া জ্যোৎস্নার সঙ্গে মিশেছে

             ভোরবেলাকার ফ্যাকাশে আলো,

      ছড়িয়ে পড়েছে আমার পাঙাশ-বরণ শূন্য জীবনে।

           গেলেম তোমার শোবার ঘরের দিকে

     বিনা কারণে।

   দরজার বাইরে জ্বলছে

           ধোঁওয়ায়-কালি-পড়া হারিকেন লণ্ঠন,

              বারান্দায় নিবো-নিবো শিখার গন্ধ।

         ছেড়ে-আসা বিছানায় খোলা মশারি

             একটু একটু কাঁপছে বাতাসে।

                জানলার বাইরের আকাশে

          দেখা যায় শুকতারা,

    আশা-বিদায় করা

         যত ঘুমহারাদের সাক্ষী।

             হঠাৎ দেখি ফেলে গেছ ভুলে

         সোনাবাঁধানো হাতির দাঁতের লাঠিগাছটা।

   মনে হল, যদি সময় থাকে

    তবে হয়তো স্টেশন থেকে ফিরে আসবে খোঁজ করতে–

কিন্তু ফিরবে না

      আমার সঙ্গে দেখা হয় নি বলে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত