আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

অপ্রকাশ কবিতা | oprokash kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

অপ্রকাশ কবিতাটি [ oprokash kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

অপ্রকাশ oprokash

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ অপ্রকাশ oprokash

 

অপ্রকাশ কবিতা | oprokash kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুক্ত হও হে সুন্দরী!

                             ছিন্ন করো রঙিন কুয়াশা।

          অবনত দৃষ্টির আবেশ,

                             এই অবরুদ্ধ ভাষা,

          এই অবগুণ্ঠিত প্রকাশ।

                             সযত্ন লজ্জার ছায়া

          তোমারে বেষ্টন করি জড়ায়েছে অস্পষ্টের মায়া

শতপাকে,

মোহ দিয়ে সৌন্দর্যেরে করেছে আবিল;

অপ্রকাশে হয়েছ অশুচি।

          তাই তোমারে নিখিল

রেখেছে সরায়ে কোণে।

          ব্যক্ত করিবার দীনতায়

নিজেরে হারালে তুমি,

          প্রদোষের জ্যোতিঃক্ষীণতায়

দেখিতে পেলে না আজও আপনারে উদার আলোকে–

বিশ্বেরে দেখ নি, ভীরু, কোনোদিন বাধাহীন চোখে

উচ্চশির করি।

                   স্বরচিত সংকোচে কাটাও দিন,

আত্ম-অপমানে চিত্ত দীপ্তিহীন, তাই পুণ্যহীন।

বিকশিত স্থলপদ্ম পবিত্র সে, মুক্ত তার হাসি,

পূজায় পেয়েছে স্থান আপনারে সম্পূর্ণ বিকাশি।

          ছায়াছন্ন যে লজ্জায় প্রকাশের দীপ্তি ফেলে মুছি,

          সত্তার ঘোষণাবাণী স্তব্ধ করে,

                                      জেনো সে অশুচি।

          ঊর্ধ্বশাখা বনস্পতি যে ছায়ারে দিয়েছে আশ্রয়

          তার সাথে আলোর মিত্রতা,

                                      সমুন্নত সে বিনয়।

          মাটিতে লুটিয়ে গুল্ম সর্ব অঙ্গ ছায়াপুঞ্জ করি,

          তলে গুপ্ত গহ্বরেতে কীটের নিবাস।

                                      হে সুন্দরী,

          মুক্ত করো অসম্মান, তব অপ্রকাশ-আবরণ।

          হে বন্দিনী, বন্ধনেরে কোরো না কৃত্রিম আভরণ।

          সজ্জিত লজ্জার খাঁচা, সেথায় আত্মার অবসাদ–

অর্ধেক বাধায় সেথা ভোগের বাড়ায়ে দিতে স্বাদ

ভোগীর বাড়াতে গর্ব খর্ব করিয়ো না আপনারে

খণ্ডিত জীবন লয়ে আচ্ছন্ন চিত্তের অন্ধকারে।

Amar Rabindranath Logo

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত