আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

খেয়া কাব্যগ্রন্থ (১৯১০) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যসাধনার ইতিহাসে ‘খেয়া’ (১৯০৬) এক অনন্য ও রূপান্তরমুখী সৃষ্টি। ১৯০৬ সালে (১৩১৩ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজীবনের “অন্তর্বর্তী পর্ব”-এর শেষ সীমা এবং বিশ্ববিশ্রুত “গীতাঞ্জলি পর্ব”-এর প্রত্যক্ষ পূর্বাভাস। পার্থিব রূপ-রস-শব্দ-গন্ধের জগৎ থেকে কবিচেতনা যখন অরূপ, পরম সত্তা ও আধ্যাত্মিক সুন্দরের পানে ধাবিত হচ্ছিল, সেই সন্ধিক্ষণেই জন্ম নেয় খেয়ার কবিতাগুলো।

এই কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন—‘শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু সুহৃদ্বরেষু’। ১৯০২ থেকে ১৯০৫ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবনে নেমে এসেছিল চরম শোকাঘাত; স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, কন্যা রেণুকা এবং পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ কবিকে এক গভীর বৈরাগ্য ও আত্মবীক্ষণের দিকে ঠেলে দেয়। একই সময়ে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গ থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে কবি রূপাতীত ও শাশ্বত এক আশ্রয় খুঁজছিলেন। সেই বেদনাময় বৈরাগ্য ও ঐশ্বরিক শরণাগতিরই অম্লান প্রতিফলন এই খেয়া।

‘খেয়া’ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর বিষাদ, ক্লান্তি, প্রতীক্ষা ও ঐশ্বরিক সমর্পণ। এখানে ‘খেয়া’ বা ‘খেয়ানৌকা’ কেবল পারাপারের সাধারণ মাধ্যম নয়, বরং তা মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, ইহলোক ও পরলোকের সীমা এবং পরম সত্তার সাথে মিলনের এক চিরন্তন রূপক। ঘাটে বসে থাকা, দিন শেষের আলো-ছায়া, প্রদীপ জ্বালানো, কিংবা নিঃশব্দে পথ চেয়ে থাকার মতো প্রাত্যহিক জীবনের সরল চিত্রকল্পগুলোকে কবি রূপক-প্রতীকের সুবিন্যস্ত বুননে এক অতীন্দ্রিয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় খেয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ যে ‘সং অফারিংস’ (Song Offerings)-এর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, সেই সংকলনে স্থান পাওয়া ১০৩টি কবিতার মধ্যে ১১টি কবিতাই ছিল ‘খেয়া’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। অর্থাৎ, বিশ্ব দরবারে রবীন্দ্রনাথকে চেনার ও অনুধাবন করার যে যাত্রা, তার অন্যতম মূল ভিত্তিপ্রস্তর ছিল এই কাব্য।

 

খেয়া কাব্যগ্রন্থের যাচাইকৃত কবিতা সূচি (সম্পূর্ণ ৫৫টি কবিতা)

১. শেষ খেয়া

২. ঘাটের পথে

৩. ঘাটে

৪. শুভক্ষণ

৫. ত্যাগ

৬. আগমন

৭. দুঃখমূর্তি

৮. মুক্তিপাশ

৯. প্রভাতে

১০. দান

১১. বালিকা বধূ

১২. অনাহত

১৩. বাঁশি

১৪. অনাবশ্যক

১৫. অবারিত

১৬. গোধূলিলগ্ন

১৭. লীলা

১৮. মেঘ

১৯. নিরুদ্যম

২০. কৃপণ

২১. কুয়ার ধারে

২২. জাগরণ

২৩. ফুল ফোটানো

২৪. হার

২৫. বন্দী

২৬. পথিক

২৭. মিলন

২৮. বিচ্ছেদ

২৯. বিকাশ

৩০. সীমা

৩১. ভার

৩২. টিকা

৩৩. বৈশাখে

৩৪. বিদায়

৩৫. পথের শেষ

৩৬. নীড় ও আকাশ

৩৭. সমুদ্রে

৩৮. দিনশেষ

৩৯. সমাপ্তি

৪০. কোকিল

৪১. দিঘি

৪২. ঝড়

৪৩. প্রতীক্ষা

৪৪. গান শোনা

৪৫. হারাধন

৪৬. চাঞ্চল্য

৪৭. প্রচ্ছন্ন

৪৮. অনুমান

৪৯. বর্ষাপ্রভাত

৫০. বর্ষাসন্ধ্যা

৫১. সব-পেয়েছির দেশ

৫২. সার্থক নৈরাশ্য

৫৩. প্রার্থনা

৫৪. খেয়া

৫৫. অবসান

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত