ভগ্নহৃদয় পঞ্চদশ সর্গ bhagno hriday ponchodos sorgo কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাব্যগ্রন্থ : ভগ্নহৃদয় কবিতার শিরোনামঃ ভগ্নহৃদয় পঞ্চদশ সর্গ ভগ্নহৃদয় পঞ্চদশ সর্গ bhagno hriday ponchodos sorgo কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি ও মুরলা মুরলা। কবি গো আমার, যদি আমি ম’রে যাই তা হ’লে কি বড় কষ্ট হয় গো তোমার? কবি। ওকি কথা মুরলা লো, বলিতে যে নাই! তুই ছেলেবেলাকার সঙ্গিনী আমার! কাঁদিস্ না, কাঁদিস্ না, মোছ্ অশ্রুধার! আহা, সখি, বড় সুখী হই আমি মনে যদি দেখি প্রেমে তুই পড়েছিস্ কার, সুখেতে আছিস্ তোরা মিলি দুইজনে! নিরাশ্রয় মনে আসে কত কি ভাবনা, কিছুতে অধীর হৃদি মানে না সাত্ত্বনা– সজনি, অমন সব ভাবনা-আঁধার ভাবিস্ নে কখনো লো, ভাবিস্ নে আর! মুরলা। কবি গো, রজনীগন্ধা ফুটেছিল গাছে– তুমি ভালবাস ব’লে আপনি এনেছি তুলে, নেবে কি এ ফুলগুলি, রাখিবে কি কাছে? কবি। সখি লো, নলিনী কাল দুটি চাঁপা তুলে পরায়ে দেছিল মোর দুই কর্ণমূলে, পরশিতে দলগুলি পড়িছে ঝরিয়া, এখনো সুবাস তার যায় নি মরিয়া। মুরলা। দেখি সখা, একবার দেখি হাতখানি– এ হাত কাহারে, কবি, করিবে অর্পণ? কত ভাল তোমারে সে বাসিবে না জানি! না জানি, তোমারে কত করিবে যতন! কিসে তুমি রবে সুখী সকলি সে জানিবে কি? দেখিবে কি প্রতি ক্ষুদ্র অভাব তোমার? […]